তাজাম্মুল হক, কেশবপুর
❒ আবুল হোসেন আজাদ ও অধ্যাপক মুক্তার আলী ছবি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করবেন। পাশাপাশি তিনি তার এক কন্যা ও দুই পুত্রের কাছ থেকে অর্থ ধার নেবেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকার তিনজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে স্বেচ্ছায় ১২ লাখ টাকা সহায়তা দেবেন।
প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা ও আয়-ব্যয় বিবরণী পর্যালোচনায় এসব তথ্য জানা গেছে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুক্তার আলী তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী ব্যয়ের একটি বড় অংশ তিনি টিউশনি থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বহন করবেন।
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ নির্বাচনের সম্পূর্ণ ব্যয় নিজ অর্থায়নে বহন করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি নিজের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা নির্বাচনী কাজে ব্যয় করার কথা উল্লেখ করেছেন।
আবুল হোসেন আজাদের সম্পদ: মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় আবুল হোসেন আজাদ তার নিজের ও পরিবারের আয়-ব্যয় এবং সম্পদের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, এই প্রার্থীর বার্ষিক আয়ের বড় একটি অংশ আসে শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে। ব্যবসা খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৬ টাকা। এছাড়া বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে বছরে আয় হয় ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৮০৬ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ, যানবাহন ও স্বর্ণালঙ্কারের তথ্য রয়েছে। প্রার্থীর নামে ব্যাংকে ১৮ লাখ ৫৮ হাজার ২০৬ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা জমা আছে। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে তার বিনিয়োগ ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪ টাকা এবং স্ত্রীর বিনিয়োগ ১ কোটি ২৫ লাখ ২১ হাজার ৯৭০ টাকা। যানবাহনের তালিকায় দুটি কার, একটি মাইক্রোবাস ও একটি জিপ রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি ও রেমিট্যান্সসহ অন্যান্য খাতে সম্পদের মূল্য ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ৩১৫ টাকা।
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তার নামে অকৃষি জমিতে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯১ হাজার টাকা। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থী বা তার পরিবারের নামে কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
২০২৫-২৬ করবর্ষে আবুল হোসেন আজাদ ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৮৮৬ টাকা আয় দেখিয়ে ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ টাকা কর দিয়েছেন। তার স্ত্রীর প্রদর্শিত আয় ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৭ টাকা।
অধ্যাপক মুক্তার আলীর সম্পদ: জামায়াত প্রার্থী মুক্তার আলীর হলফনামা অনুযায়ী, তার মোট কৃষি জমির পরিমাণ ২৮.৮২ শতক। এর মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২৫.৫০ শতক এবং ক্রয়কৃত ৩.৩২ শতক জমি রয়েছে। এছাড়া ৭.৫ শতক জমির ওপর একটি বসতবাড়ি রয়েছে। ব্যবসা, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র থেকে তার কোনো আয় নেই।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার মাত্র ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ফ্রিজ ও ওভেন এবং ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। একসময় অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।