Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

নীরব মেধা পাচার : গভীর সংকটে আগামীর বাংলাদেশ

ড. মো. মেসবাহ উদ্দীন ড. মো. মেসবাহ উদ্দীন
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৯:২৫ এ এম
আপডেট : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ১২:২২ এ এম
নীরব মেধা পাচার : গভীর সংকটে আগামীর বাংলাদেশ

জ ২৬ এপ্রিল বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস (World Intellectual Property Day) । বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। মানুষের সৃজনশীল কাজ এবং উদ্ভাবন যেমন—প্যাটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক এবং ডিজাইনকে আইনি সুরক্ষা প্রদানই মেধা সম্পদ বা 'ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি'র মূল লক্ষ্য। ২০২৬ সালে নতুন বাংলাদেশের এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও একটি নতুন স্বপ্নময় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা সম্পদ সংরক্ষণের গুরুত্ব অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

​সৃজনশীলতার সুরক্ষা কেন প্রয়োজন ?

​একজন লেখক যখন বই লেখেন, একজন বিজ্ঞানী যখন নতুন কোনো প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন বা একজন উদ্যোক্তা যখন নতুন কোনো ব্র্যান্ড তৈরি করেন—তখন তার পেছনে থাকে দীর্ঘ পরিশ্রম ও মেধা। এই সৃজনশীল কর্ম যদি চুরি হয়ে যায় বা নকল হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উৎসাহ হারান। অনেক ক্ষেত্রে তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
​মেধা সম্পদ আইন মূলত সৃজনশীল মানুষকে তাদের কাজের ওপর একচ্ছত্র অধিকার প্রদান করে, যা প্রকারান্তরে নতুন নতুন উদ্ভাবনের পথ সুগম করে। একটি দেশ তখনই সমৃদ্ধ হয় যখন সেখানে লেখক,গবেষক এবং সৃজনশীল ব্যক্তিদের কাজের উপযুক্ত সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।

​বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ

​বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে আমাদের কেবল প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলে চলবে না, বরং নিজেদের উদ্ভাবনকেও বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে কপিরাইট ও প্যাটেন্ট সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়লেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে-

​পাইরেসি ও নকল পণ্য 
বই, সফটওয়্যার এবং সিনেমার পাইরেসি আমাদের সৃজনশীল শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
​সচেতনতার অভাব 
অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME) জানেনই না কীভাবে তাদের ট্রেডমার্ক বা ডিজাইন নিবন্ধন করতে হয়।
​প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা 
ডিজিটাল যুগে মেধা সম্পদ হরণ রোধে আরও উন্নত রাষ্ট্রীয় মনিটরিং প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মেধা পাচারের ভয়াবহ চিত্র 

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে মেধাপাচারের (Brain Drain) সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ সরকারিভাবে "মেধাপাচার" নামে আলাদা কোনো ডাটাবেজ নেই। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা (UNESCO, World Bank) এবং দেশীয় গবেষণার ভিত্তিতে একটি চিত্র তুলে ধরা হলো যার রীতিমতোই উদ্বেগ জনক !
​ মেধাপাচারের বর্তমান সূচক ও প্রবণতা

​'দ্য গ্লোবাল ইকোনমি'-এর Human Flight and Brain Drain Index (০ থেকে ১০ স্কেলে) অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান বেশ উদ্বেগজনক:
‌​ঐতিহাসিক তথ্য : ২০০৭ সালে এই সূচক ছিল ৮.৪০, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালের সূচক: ৬.৭০ (বিশ্ব গড় ৪.৯৮-এর চেয়ে অনেক বেশি)। ২০২২ সালে এটি সর্বনিম্ন ৬.৭০-এ নেমে আসলেও ২০২৪ সাল নাগাদ তা পুনরায় স্থিতিশীল রয়েছে।

​১. উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশগমন ও ফেরত না আসা

​ইউনেস্কোর (UNESCO) 'গ্লোবাল ফ্লো অফ টার্শিয়ারি-লেভেল স্টুডেন্টস' রিপোর্ট অনুযায়ী:
২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২,৭৯৯ জন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের ৫৫টি দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৪,৩৩৮ এবং ২০২২ সালে ছিল ৪৯,১৫১। অর্থাৎ, প্রতি বছর এই সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতি বছর প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।
ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে ২০২৩,অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭০-৮০% আর দেশে ফিরে আসেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। সাম্প্রতিক ডাটা অনুযায়ী, ২৭১ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন।

​২. পেশাজীবীদের বিদেশ গমন ও ফিরে না আসা (১৯৭৬ - ২০২৪)

​জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ বিদেশে গেছেন। যদিও এর বড় অংশ অদক্ষ শ্রমিক, তবে "প্রফেশনাল" ক্যাটাগরিতে (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইটি বিশেষজ্ঞ) পাচার হওয়া মেধার সংখ্যাও কম নয়। যেমন
ক. ডাক্তার : প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডাক্তার বিশেষ করে এফ সি পি এস বা উচ্চতর ডিগবিধারী ইউকে ইউ এস এ ও মধ্যপ্রাচ্যে চলে যাচ্ছেন।
খ. ইঞ্জিনিয়ার : বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ারদের বড় একটা সংখ্যক দেশের বাইরে গিয়ে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখেন। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে ১৯৯৪ ব্যাচের ৪৫ জনের মধ্যে ৩৫ জনই বর্তমান দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
গ. গবেষক : আমাদের দেশে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নাই। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গবেষণার সুযোগ কম থাকায় প্রায় ৮০% পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা বিদেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

মেধা পাচারে রাষ্ট্রীয় লোকসানের আর্থিক খতিয়ান

​একজন মেধাবীকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়-

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২,১৮,৫৫৭ টাকা।
​বুয়েট: বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৩,১৪,৪৭৭ টাকা।
​মেডিকেল: একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ১৫ লাখ টাকার উপরে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)-এর মতে, মেধা পাচারের কারণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছর প্রায় ০.৫% কম হচ্ছে।
​যখন এই মেধাবীরা বিদেশে স্থায়ী হন, তখন রাষ্ট্রের এই বিনিয়োগ সরাসরি অন্য দেশের জিডিপিতে অবদান রাখে, যাকে "নীরব মেধাপাচার" বলা হয়।

​মেধাবীদের দেশত্যাগের প্রধান কারণসমূহ (জরিপ ২০২৩)

বর্তমান তরুণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মানসিকতা "দেশের বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে"এভাবেই তৈরি হয়।​ মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ যেমন বুয়েট মেডিকেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ নামিদামি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ স্বপ্ন দেখে তাদের পরবর্তী ভবিষ্যৎ অথবা পরবর্তী প্রজন্ম দেশের বাইরে গিয়ে একটি নিশ্চিত সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।তরুণদের মাঝে

পরিচালিত একটি জরিপে দেশ ছাড়ার মূল কারণগুলো হলো-

​৭৫.৫%: আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।
​৫০.৯%: দক্ষতা অনুযায়ী চাকুরির অভাব।
​৪০.৮%: উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগের অভাব।
​সারসংক্ষেপে, স্বাধীনতার পর থেকে প্রথম দুই দশকে মেধাপাচারের হার কম থাকলেও, গত ১০-১৫ বছরে উন্নত জীবনযাত্রা এবং পেশাদার মূল্যায়নের অভাবে এটি একটি জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।

 মেধা পাচার রোধে করণীয়

​দেশ থেকে এই অমূল্য সম্পদ পাচার রোধ করতে হলে বহুমুখী পদক্ষেপ প্রয়োজন-

​১. মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান 

​বাংলাদেশে অনেক মেধাবী তরুণ কেবল যোগ্য পদের অভাব বা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবে দেশ ছাড়েন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং পারফরম্যান্স অনুযায়ী পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

​২. গবেষণায় বাজেট বৃদ্ধি ও সুযোগ তৈরি 
​বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একজন গবেষক যখন দেশে বসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও ল্যাবরেটরি পাবেন না, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই বিদেশের উন্নত ল্যাবগুলোর দিকে ঝুঁকবেন।

আরও পড়ুন-

সৃজনশীলতার সুরক্ষা: বই দিবসের ভাবনা সৃজনশীলতার সুরক্ষা: বই দিবসের ভাবনা

​৩. উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ (Startup Ecosystem) 

​মেধাবীরা যাতে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে, সেজন্য সহজ শর্তে ঋণ ও 'স্টার্টআপ কালচার' তৈরি করতে হবে। এতে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থান করবে।

​৪. উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন 
​বিদেশে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিক্ষার মান। দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে এবং পাঠ্যক্রমকে বর্তমান বিশ্বের কর্মবাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

​৫. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা 
​মেধাবীরা একটি নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বাস করতে চায়। দেশে উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা, বায়ুদূষণ কমানো এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে পারলে অনেকেই দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন।


​৬. 'ব্রেইন গেইন' (Brain Gain) বা মেধা ফিরিয়ে আনা 

​যারা ইতিমধ্যে বিদেশে সফল হয়েছেন, তাদের জন্য দেশে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা (যেমন—বিশেষ কর সুবিধা বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে উচ্চ বেতন) যাতে তারা অন্তত পার্ট-টাইম বা অনলাইনে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন।


আসলে মেধা পাচার কেবল একজন ব্যক্তির দেশত্যাগ নয়, বরং একটি জাতির মেরুদণ্ড ক্ষয় হওয়ার নামান্তর। আমাদের মেধাবীরা যখন বিদেশের মাটিতে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন, তখন নিজ দেশে তৈরি হচ্ছে এক বিশাল শূন্যতা। এই সংকট নিরসনে কেবল দেশপ্রেমের দোহাই দিলেই চলবে না, বরং প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন। মেধাভিত্তিক মূল্যায়ণ, গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ এবং উন্নত জীবনমানের নিশ্চয়তা দিতে না পারলে এই স্রোত থামানো অসম্ভব।

​তবে সংকট ঘনীভূত হলেও এখনো সব ফুরিয়ে যায়নি। সরকার, নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি খাত যদি সমন্বিতভাবে মেধাবীদের জন্য একটি সম্মানজনক ও কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরি করতে পারে, তবে এই 'ব্রেইন ড্রেন' বা মেধা পাচারকে 'ব্রেইন গেইন' বা মেধা প্রত্যাবর্তনে রূপান্তর করা সম্ভব। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ভর করছে আজ আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কতটা আগলে রাখতে পারছি তার ওপর। মেধার কদর বাড়লে তবেই সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এই হোক আমাদের আগামীর অঙ্গীকার।

লেখক: গবেষক, গ্রন্থপ্রণেতা ও ব্যাংকার

এই লেখকের আরও লেখা-

পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব: ইসলামী দৃষ্টিকোণ পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব: ইসলামী দৃষ্টিকোণ 'এপ্রিল ফুল’ বা ‘নিখিল বোকা' দিবস মিথ না কি বাস্তব? 'এপ্রিল ফুল’ বা ‘নিখিল বোকা' দিবস মিথ না কি বাস্তব? জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ২৬ মার্চের প্রত্যাশা জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ২৬ মার্চের প্রত্যাশা

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)