Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মক্কা চুক্তিতে কেন যেতে চায় বাংলাদেশ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট,২০২৬, ০২:০৭ পিএম
মক্কা চুক্তিতে কেন যেতে চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক-কূটনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি'। ফিলিস্তিনের গাজা সংকট, লোহিত সাগরে সংঘাত এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মতো জটিল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত এই নিরাপত্তা জোট মুসলিম বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা বিশ্ব ঐতিহাসিক নগরী মক্কায় এই তিন দেশের যৌথ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে এর অভিঘাত টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার তীব্র আগ্রহ প্রকাশের পর।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে ঢাকার ইতিবাচক অবস্থান ঘোষণা করার পর থেকে কূটনৈতিক মহল, সামরিক বিশ্লেষক এবং আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের দিকে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টির বহুমুখী প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ কেন নিজের ঐতিহ্যগত 'সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়' নীতির সীমানা পেরিয়ে এই ধরনের একটি পূর্ণাঙ্গ যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে ঝুঁকতে চাইছে? এতে ঢাকার জন্য কী ধরনের লাভ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে? কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার জটিল আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বাংলাদেশ এতে কী ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে?— এসব প্রশ্ন এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোকে সাধারণ সামরিক সমঝোতার বাইরে এক উচ্চমাত্রার প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। মূলত ২০২৩ সালে শুরু হওয়া গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকটের নতুন মাত্রা দেখা দেয়। একদিকে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার, অন্যদিকে ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী দলগুলোর ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর নিরাপত্তা ভাবনাকে আমূল বদলে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক আলোচনার পর চলতি বছরের ৭ আগস্ট মক্কায় বিশ্ব মুসলিম প্রধান তিন দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী নেতারা মুখোমুখি হন। চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

এই চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি— স্বাক্ষরকারী তিন দেশের কোনো একটি দেশের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব বা নিরাপত্তার ওপর আক্রমণ চালানো হলে, তা তিন দেশের ওপরই সম্মিলিত আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, এই ধারাটি মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) অনুচ্ছেদ ৫-এর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে 'কার্যত অভিন্ন'। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যাটোর সুনির্দিষ্ট স্থায়ী সামরিক কমান্ড কাঠামোর মতো মক্কা চুক্তিতে এখনো যুদ্ধকালীন নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা মোতায়েন বা স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানোর বাধ্যবাধকতা লিখিত আকারে রাখা হয়নি। জাতিসংঘের সনদ ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত 'স্বতন্ত্র ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার'-এর অধীনে এটি মূলত তিনটি আঞ্চলিক পরাশক্তির একটি সুদৃঢ় রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব।

আন্তর্জাতিক গবেষক আলতাফ পারভেজের মতে, বৈশ্বিক বলয় ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সামরিক পরাশক্তিগুলো এখন জোটবদ্ধ হয়ে পারস্পরিক অস্তিত্ব রক্ষার পথ খুঁজছে। এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া তিন দেশের কৌশলগত সক্ষমতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা একে অপরের সুনির্দিষ্ট ঘাটতিগুলো পূরণ করছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব এতে অর্থনৈতিক ভিত্তি দিচ্ছে, আধুনিক ড্রোন ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে তুরস্ক দিচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা, আর পাকিস্তান যুক্ত করছে তার সুদীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা ও পারমাণবিক সক্ষমতা।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বিশ্ব রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হলেও, হঠাৎ করে বাংলাদেশের এতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঢাকার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, "মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি। মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত আবেগের ও গভীর। মধ্যপ্রাচ্যে যদি এমন কোনো উদ্যোগ তৈরি হয় যেখানে মুসলিম দেশগুলো তাদের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি প্যাক্ট গঠন করছে, তবে বাংলাদেশ সেখানে যুক্ত হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং খুব ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।"

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টির জোরালো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। দেশের অন্যতম শীর্ষ বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে চুক্তিটিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, "মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব এবং সার্বভৌম বিষয়। দেশ, জাতি ও আমাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশ যদি কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তাতে অন্য কোনো বাইরের পরাশক্তি বা প্রতিবেশীর রাজনৈতিক উদ্বেগে বা শ্বাসকষ্টে ভোগার কোনো প্রয়োজন নেই।"

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাব এনাম খানের মতে, বাংলাদেশের মক্কা জোটে যাওয়ার আগ্রহ নিছক কোনো রাজনৈতিক আবেগ নয়; বরং এর পেছনে একাধিক বাস্তবিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে। বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা অবকাঠামো বা আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে এখনও বড় ধরনের বৈচিত্র্যের অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ যদি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশের নিরাপত্তা ছাতার অধীনে আসে, তবে দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ধরনের বৈশ্বিক প্রতিরোধমূলক মানসিক সুবিধা তৈরি হবে। বিশেষ করে তুরস্কের আধুনিক ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি লাভ করা বাংলাদেশের জন্য সহজতর হতে পারে।

দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। চীন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানামুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মিয়ানমার জান্তা সরকারকে কার্যকরভাবে চাপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সুরক্ষার পাশাপাশি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো তিনটি প্রভাবশালী দেশের সমন্বিত সামরিক জোটের সদস্য হতে পারলে, তা মিয়ানমার সরকার ও মিয়ানমারের ভেতরের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ওপর সরাসরি মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরিতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে।

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রধান উৎস। এছাড়া লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়া মানে মধ্যপ্রাচ্যের মূল ক্ষমতার অক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়া। এটি বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং সৌদি ও তুর্কি বিনিয়োগ বাংলাদেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সাথে বিশ্ব রাজনীতি যখন দ্রুত রূপ বদলাচ্ছে এবং আমেরিকা ও ন্যাটোর পাশাপাশি ব্রিকস (BRICS) বা সাংহাই কোঅপারেশনের মতো একাধিক আঞ্চলিক অক্ষ তৈরি হচ্ছে, তখন বাংলাদেশ কেবল একটি ব্লকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে একাধিক নতুন আঞ্চলিক জোটে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাইছে।

লাভের সম্ভাবনা যেমন বিপুল, তেমনি মক্কা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলে বাংলাদেশকে অভূতপূর্ব সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজের মতে, বাংলাদেশ এই সামরিক জোটে সরাসরি যুক্ত হলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের জন্য তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ভারতের দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি—চীন এবং পাকিস্তান। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো প্রতিরক্ষা অক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সামরিক চুক্তি করলে ভারত নিজের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চাপ অনুভব করতে পারে। এর ফলে ভারত তার নিরাপত্তা সুসংহত করতে ইসরায়েল বা অন্যান্য পশ্চিমা সামরিক শক্তির সাথে নিজস্ব কৌশলগত অক্ষ আরও দৃঢ় করতে পারে, যার ফলে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে দুই ভিন্ন কূটনৈতিক অক্ষের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হতে পারে এবং বাংলাদেশ সেই সংঘাতের কেন্দ্রে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

বাংলাদেশ এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চলেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সমন্বিত নেতৃত্বকে ইরানের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো সবসময় ইতিবাচকভাবে নাও দেখতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর (বিশেষ করে পাকিস্তানের পারমাণবিক অবস্থান ও তুরস্কের স্বাধীন নীতি) জটিল সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ একটি আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটে যুক্ত হলে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল তিনটি প্রধান মুসলিম দেশের সামরিক সমঝোতার দলিল নয়, বরং এটি বদলে যাওয়া নতুন বিশ্বব্যবস্থার এক অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব রাজনীতি যেখানে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব প্রতিরক্ষার দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেখানে মক্কা প্যাক্ট এক বিশাল প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়া এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অত্যন্ত লাভজনক 'দ্বিমুখী তলোয়ার'-এর মতো। একদিকে এটি বাংলাদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার অক্ষ ও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবেশী ভারতের ক্ষোভ, আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা না করতে পারার বড় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যদি মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে শেষ পর্যন্ত সরাসরি সদস্য হিসেবে সই করে কিংবা বিশেষ পর্যবেক্ষণমূলক সামরিক সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়, তবে কৌশলগত সতর্কতাই হবে ঢাকার প্রধান অস্ত্র। জাতীয় স্বার্থ, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সুসংহত রেখে কীভাবে এই সামরিক বলয়কে বাংলাদেশ নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে পারে—আগামী দিনগুলোতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের সেই দূরদর্শিতার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)