বিশেষ প্রতিনিধি
ছবি: এ আই প্রণীত
ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)-এর প্রধান পরাগ জৈনসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর বেশ উত্তপ্ত ও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
জুলকারনাইন সায়েরের পোস্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর আমন্ত্রণে গত ৯ ও ১০ আগস্ট প্রতিনিধিদলটি ঢাকা সফর করে। এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত হলেও, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে প্রতিনিধিদলটি কঠোর অবস্থানের মুখোমুখি হয়। ঢাকা সফরকালে ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য তিন কর্মকর্তা—অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস (যার পিতা এমভি কোটনিস দীর্ঘদিন একই সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন), রাহুল নেগি ও শৈবাল রায় চৌধুরী—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রুটিন দ্বিপাক্ষিক সফরে এলেও, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সরাসরি এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাদের।

ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত তথ্যানুযায়ী, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রথমত, ভারতে অবৈধভাবে বসবাসরত পলাতক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় এবং প্রশ্ন তোলা হয় যে, ঠিক কোন বিবেচনায় ভারত সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এসব ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে ও কবে নাগাদ তাদের ফেরত পাঠানো হবে। দ্বিতীয়ত, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং বর্তমানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আটক ফয়সাল করিম, তার সহযোগী আলমগীর ও ফিলিপকে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তরের সুস্পষ্ট দিন-তারিখ জানতে চাওয়া হয়। তৃতীয়ত, ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার অন্যান্য সহযোগীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। এ ধরনের সরাসরি প্রশ্নের মুখে সফররত ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন বলে জুলকারনাইন সায়ের তার পোস্টে উল্লেখ করেন।
জুলকারনাইন সায়েরের দেওয়া তথ্যমতে, ডিজিএফআই-এর একজন দায়িত্বশীল পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের গোয়েন্দা প্রধানকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তাটি হলো—দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত আদৌ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী কি না, তা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে। এই লক্ষ্যে পলাতক নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া, ওসমান হাদির হত্যাকারীদের হস্তান্তর এবং অপরাধী শেখ হাসিনা ও তার দলের অন্যান্য পলাতক নেতাদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর মাধ্যমেই ভারতকে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।