Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬ পাস

অনলাইন বেটিং, ম্যাচ-স্পট ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, কোটি টাকা অর্থদণ্ড

ধ্রুব ধ্রুব
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন,২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
অনলাইন বেটিং, ম্যাচ-স্পট ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল, কোটি টাকা অর্থদণ্ড

বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করতে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। পাস হওয়া বিলে অনলাইন বেটিংয়ের অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬ পাস হয়। ১৮৬৭ সালের দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট রহিত করে নতুন আইন করা হচ্ছে।

নতুন আইনকে সমর্থন করলেও আইনে দেওয়া কিছু ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা করেছে বিরোধী দল। জুয়া প্রতিরোধের কথা বলে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলনে। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই–বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কেউ অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

পাস হওয়া বিলে অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিং, জুয়ার স্থান, সামগ্রীসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড/কারাদণ্ড/উভয় দণ্ড) বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের ওপর বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কথা উল্লেখ করে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বিলের বাহ্যিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে তিনি একমত হলেও ভবিষ্যতে কয়েকটি ধারার অপব্যবহারের আশঙ্কা আছে। তল্লাশি, জব্দ, জুয়ার স্থান সিলগালা, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন ও আইপি অ্যাড্রেস ব্লক করার ক্ষমতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের অনুমতি ছাড়া এসব ক্ষমতা দিলে তা নাগরিক অধিকারের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

আখতার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জুয়া প্রতিরোধের কথা বলে সরকারের সমালোচনাকারী কোনো ওয়েবসাইট, নিউজ পোর্টাল বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও একসময় বিরোধী মত দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন সাইবার স্পেস, অনলাইন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে জুয়া হয়। আদালতের অনুমতি নিতে গেলে অপরাধের আলামত বা স্থান দ্রুত সরিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে। বিভিন্ন আইনে পুলিশের তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা রয়েছে; এই বিলেও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বিশেষ কমিটির রিপোর্টে দেওয়া ভিন্নমতের কথা উল্লেখ করে বলেন, পুলিশকে আদালতের অনুমতি ছাড়া মালামাল জব্দের ক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। আইনটি যুগোপযোগী হলেও অপব্যবহার ঠেকাতে জব্দের পর দ্রুত ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করা উচিত।

জুয়া প্রতিরোধ বিল পাসের পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা আইনটির পক্ষে। কিছু সুনির্দিষ্ট ধারায় বিরোধী দলের সংশোধনী গ্রহণ করা হলে তাঁরা আইনটিকে আরও সাদরে গ্রহণ করতে পারতেন। তাঁরা আশা করেন, সরকার পরবর্তী সময়ে সংশোধনীগুলো বিবেচনা করবে। এই আইনের যাতে অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)