নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (গ্রীষ্মকালীন)-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
৪১ জন অফিসার ক্যাডেটের কমিশন লাভ
যশোরে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (গ্রীষ্মকালীন)-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় এই অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর ৮৮তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৬এ এবং এসপিএসএসসি-২০২৬এ কোর্সের কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার ক্যাডেটরা এই কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিনি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে কৃতী কর্মকর্তাদের মাঝে পদক, ট্রফি ও ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন।
প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জন করে এবারের কোর্সে মর্যাদাপূর্ণ “সোর্ড অব অনার” লাভ করেন অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী। উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য “বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি” অর্জন করেন অফিসার ক্যাডেট আদনান হক। এছাড়া জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য “কমান্ড্যান্টস ট্রফি” এবং গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চে সেরা ফলাফলের জন্য “বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি” লাভ করেন অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী।
পাশাপাশি, এবারের গ্রীষ্মকালীন পর্বে “বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ স্কোয়াড্রন” চ্যাম্পিয়ন হিসেবে একাডেমি পতাকা অর্জনের গৌরব লাভ করে।
এই কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৫ জন নারী অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করলেন। ঐতিহাসিক এই আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেন একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার তাহসিন আহম্মেদ কোরাইশী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ‘কিলো ফ্লাইট’-এর বীর সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আজকের আধুনিক ও সুসজ্জিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, সেনা ও নৌবাহিনীকে সহায়তা এবং বেসামরিক প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিমানবন্দরসমূহের ফ্লাইট কার্যক্রম সচল রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসামান্য পেশাদারিত্ব, সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্ট, আকর্ষণীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে এবং চৌকষ প্যারাট্রুপারদের দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং প্রদর্শিত হয়। আকাশজুড়ে বিমান বাহিনীর এই কসরত উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে এবং পুরো প্যারেড গ্রাউন্ডজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।