❒ হরমুজ প্রণালি বন্ধ
ধ্রুব ডেস্ক
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও বাংলাদেশে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট দেখা দেবে না। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করেছে ইরান। মন্ত্রী বলেছেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় বাজারে পণ্যমূল্যেও কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তিনি সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও বাংলাদেশ তা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রণালিটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের অবস্থা তৈরি হয়নি।
সরকার জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানান মন্ত্রী। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আরো কয়েকদিন দেখা হবে। দুই-চার দিনের মধ্যে সংঘাতের সমাধান হলে কোনো ঝুঁকি থাকবে না।
এদিকে বৈঠক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী ভারতকে প্রতিবেশী এবং একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কিছুটা স্থবির থাকলেও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এ ধরনের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে। তিনি বলেন,তাদের সঙ্গে আমাদের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে, যার মধ্যে ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি এবং ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো এগিয়ে নিতে আমরা ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কয়েকটি বর্ডার হাট ও স্থলবন্দর বন্ধ থাকলেও বাণিজ্য সম্প্রসারণের স্বার্থে সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অবশ্য ভারতীয় অর্থায়নে চলমান বা প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে বলেও রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মা জানান । তিনি বলেন, নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সম্পর্ক আরো জোরদার করতে কাজ করবে তার দেশ। পাশাপাশি ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে।