❒ যশোরে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন চলছে গণনা।
কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক সামগ্রিক ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। অনেক কেন্দ্রের সামনে দেখা যায় ভোটারদের লম্বা সারি। তাদের অনেকেই ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তরুণ ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষনীয়।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০০টির মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর–৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি দল। মোট ২ হাজার ২৮ প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (দলীয়; ৬৩, স্বতন্ত্র; ২০)। পুরুষ ১ হাজার ৯৪৬ জন (দলীয় ১,৬৯২, স্বতন্ত্র: ২৫৩)।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
ভোট শুরুর আগে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ভোটকক্ষ দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
যশোরের নির্বাচনী ফলাফল ও পরিসংখ্যান: জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। যশোর-১ (শার্শা): এই আসনে ১০২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৩ লাখ ৮ হাজার ৪১৭ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ১৯ হাজার ৫৮০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এখানে ভোটের হার ৭২ শতাংশ। যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): ১৭৫টি কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫৬ জন ভোটারের বিপরীতে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ২৮ হাজার ৯ জন। এই আসনে পোলিং হার ৬৯ শতাংশ। যশোর-৩ (সদর): জেলার সবচেয়ে বড় এই আসনে ১৯০টি কেন্দ্রে মোট ৬ লাখ ৬ হাজার ৬২৭ জন ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩৫ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৬৪ শতাংশ। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): এই আসনের ১৪৮টি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৩৮ জন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৬ জন হিসেবে এখানে ভোটের হার ৭০ শতাংশ। যশোর-৫ (মণিরামপুর): মণিরামপুরে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এখানকার ১২৮টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৬ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৭৭ শতাংশ। যশোর-৬ (কেশবপুর): জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে কেশবপুরে। ৮১টি কেন্দ্রে ২ লাখ ২৬ হাজার ৪২৩ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৯ জন ভোট দিয়েছেন। এখানে রেকর্ড ৭৮ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় পুরো জেলাজুড়ে একটি নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজমান ছিল।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, "শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।" বিকেল সাড়ে ৪টার পর কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয়েছে ভোট গণনার কাজ। এখন প্রার্থী ও সমর্থকদের অপেক্ষা চূড়ান্ত ফলাফলের।