Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ভোটের পর ১৮০ কার্যদিবস নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে সরকার

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ভোটের পর ১৮০ কার্যদিবস নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে সরকার

গণভোটের ফলাফল যা-ই হোক, নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে আগামী সংসদের ১৮০ কার্যদিবস ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।  গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ সই করে। এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গত ১৩ নভেম্বর আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। আদেশের ৭(গ) ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম অধিবেশনের দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। এরপর পরিষদ বিলুপ্ত হবে।

এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনের পর ১৮০ দিন অন্তর্বর্তী সরকারই ক্ষমতায় থাকবে। এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। বলেছে, নির্বাচনের পরপর নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তারা।

একাদশ জাতীয় সংসদে মোট ২৩২ কার্যদিবস সংসদ চলে। অন্য সংসদও ২০০ থেকে ২৫০ কার্যদিবস চলেছে। 

সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। পরিষদ সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। এমপিরা একই সঙ্গে সংসদ ও পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের জন্য সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি প্রযোজ্য হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ১৮০ কার্যদিবস পর্যন্ত চলতে পারবে, অর্থাৎ সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি প্রযোজ্য হওয়ায় ক্যালেন্ডারের হিসাব ধরে ছয় মাস বা ১৮০ দিন নয়; কয়েক বছরে পরিষদের ১৮০ কার্যদিবস পূর্ণ হতে পারে। এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক। 

জুলাই সনদ প্রণয়ন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপর নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেবেন। এর পরই নতুন সরকার গঠিত হবে। 

ভোটের কতদিন পর সরকার

১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদের নির্বাচন হয়। ২১ জুন নতুন সরকার গঠিত হয়। 

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন হয়। নতুন সরকার গঠিত হয় ১০ অক্টোবর। 

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। এক সপ্তাহ পর ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠিত হয়। পরবর্তী তিনটি নির্বাচনেও ভোটের পর এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন  সরকার গঠিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর শপথের মাধ্যমে বিদায় নেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। 

সরকার গঠনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় লেগেছিল ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে। সেবার ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের ২১ দিন পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কারণ, ওই সংসদ নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১৪৩ আসন পাওয়া বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর ১৮ এমপির সমর্থনে সরকার গঠন করেছিল।

এমপিদে শপথ নেওয়ার সময় 

নিয়ম অনুযায়ী ভোটের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচিত এমপির নাম ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচিতরা পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নেবেন। নইলে সদস্যপদ বাতিল হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় সদস্যপদ বাতিল হয়েছিল। 

সাধারণত গেজেট প্রকাশের দু-তিন দিনের মধ্যে শপথ নেন নতুন এমপিরা। যেমন– অষ্টম সংসদের এমপিরা নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর শপথ নিয়েছিলেন। নবম সংসদের এমপিরা নির্বাচনের পাঁচ দিন পর ৪ জানুয়ারি শপথ নিয়েছিলেন। 

এ নজির অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের পর তিন-চার দিনের মধ্যে নতুন এমপির নাম গেজেট আকারে প্রকাশিত হতে পারে। এর দু-তিন দিনের মধ্যে তাদের শপথ পাঠ হবে। কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শপথের দিনেই তাদের সংসদীয় দলের সভায় নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। 

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এবারও এই রীতির ব্যত্যয় হওয়ার কারণ নেই। নির্বাচনের পর ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ভুল ব্যাখ্যা।

কেন ১৮০ কার্যদিবসের পরিষদ

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরিষদের ক্ষেত্রেও একই বাধ্যবাধকতা রাখা রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে। এমপিরা সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের আদলে সভাপ্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হবেন। 

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংসদ যেভাবে চলে, পরিষদও একইভাবে চলবে। সংসদ সরকার গঠন, বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক, আইন ও বাজেট প্রণয়নের নিয়মিত কাজ করবে। পরিষদ শুধু সংবিধান সংস্কারের কাজ করবে। এর সঙ্গে সরকার গঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে সংসদ নির্বাচনের পরপরই নতুন সরকার গঠিত হবে। 

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংসদের প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশ উত্থাপন ও পাস না হলে বাতিল হয়ে যাবে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হলেও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করছে আগামী সংসদের ওপর। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েও অধ্যাদেশ পাস না হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে কিনা, তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। 

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও বিএনপি, জামায়াতসহ স্বাক্ষরকারী সব দলই বলছে, সনদ মেনে চলবে তারা। এনসিপি এখনও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি। সূত্র : সমকাল

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)