ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
সৌদি আরবের দাম্মাম কিং ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের দাম্মাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর 'শায়বাহ' তেল ক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে চালানো পৃথক হামলায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের অব্যাহত আক্রমণের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকো তাদের প্রধান কার্যালয় খালি ঘোষণা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনাবশ্যক সরকারি কর্মকর্তা ও পরিবারবর্গকে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) জানায়, বুধবার শেষ রাতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ হামলা চালানো হয়। এতে একজন সৌদি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান। আহত আটজনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি ছাড়াও দুজন ভারতীয়, দুজন ইয়েমেনি, একজন নেপালি এবং একজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হামলার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।
একই দিনে দাম্মাম থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরামকোর অন্যতম প্রধান শায়বাহ তেল ক্ষেত্র লক্ষ্য করে হামলা চালাতে আসা একটি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করে সৌদি বাহিনী। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনায় আরও দুজন প্রাণ হারান। ফলে এই দুটি পৃথক ঘটনার সমন্বয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় চারে এবং আহত ১০ জনে।
চলমান হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বৃহস্পতিবার ধাহরানে অবস্থিত তাদের আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর খালি করে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার (রিমোট ওয়ার্ক) নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরামকো। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে সহিংসতা শুরুর পর এবারই প্রথম তারা এই ধরণের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। চলতি মাসের শুরুর দিকেও হুথিদের হামলায় এই গুরুত্বপূর্ণ ভবনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, এই প্রধান কার্যালয় থেকেই আরামকোর মূল তেল ক্ষেত্র, শোধনাগার, পাইপলাইন ও রপ্তানি টার্মিনালগুলো পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে অবস্থানরত তাদের অ-জরুরি মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অনতিব্লিমে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, বেসামরিক অবকাঠামো ও বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ভ্রমণ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও সম্ভাব্য অন্যান্য হামলার বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।
হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তারা লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু শহরের আরামকো স্থাপনা এবং রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করেও আক্রমণ পরিচালনা করেছেন। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো নিশ্চিত করেনি, তবে জোট বাহিনী জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার তারা রিয়াদ ও মদিনার আকাশে কয়েকটি শত্রু ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে।
সৌদি আরবের তেল ও আকাশপথের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হুমকির মুখে পড়ায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরামকোর সদর দপ্তর খালি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি শেয়ারবাজারের সূচক প্রায় ২.৫ শতাংশ পড়ে যায়। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.১৯ ডলার বা ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১২.০১ ডলারে পৌঁছায়, যা বিগত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।