ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
রিসোর্টটির তিনটি তলাই কাঠের তৈরি ছিল। আগুনে পুরো স্থাপনাটি পুড়ে গেছে ছবি: বিজিবি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে একটি রিসোর্টে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জনসহ মোট ১০ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। ছুটি কাটাতে গিয়ে আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তোরাঁ’-য় এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুই তলা বিশিষ্ট এই রিসোর্টটির একাংশ ইটের পাকা দেয়াল হলেও বাকি অংশ কাঠ, বাঁশ ও টিনের তৈরি ছিল।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন মো. আশিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার সকালে তারা উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে ওঠেন। সকালে হঠাৎ রিসোর্টটিতে আগুন লাগলে জীবন বাঁচাতে আশিকুল দোতলা থেকে লাফ দেন। এতে তিনি বেঁচে গেলেও আগুনে পুড়ে তার পরিবারের ছয় সদস্য প্রাণ হারান। এ ছাড়া এই দুর্ঘটনায় আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও তার স্ত্রী মিলা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
সকালে রিসোর্টটিতে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে ও উদ্ধারে হাত লাগান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, নিহত ও আহত সবাই পর্যটক। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্টের কাঠ ও বাঁশের তৈরি কাঠামো দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে, যার ফলে সম্পূর্ণ স্থাপনাটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নয়টি কক্ষবিশিষ্ট এই রিসোর্টটিতে শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে গেলেও, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাকি ছয়টি কক্ষে মোট ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন।