Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

নভেম্বরের ইউপি নির্বাচন যে কারনে পিছিয়ে যেতে পারে

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৩৭ এ এম
নভেম্বরের ইউপি নির্বাচন যে কারনে পিছিয়ে যেতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক একটি পরিকল্পনা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১২ নভেম্বর ভোট শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এই বছর ভোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। আগামী মে মাসের আগে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা, রমজান মাস এবং এসএসসি পরীক্ষা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে কিছু তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তারা তাদের মতামত ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরবেন। সবার মতামত পাওয়ার পরই নির্বাচন কখন করা সম্ভব হবে তা জানা যাবে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সভার আলোচনার আগে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের কথা বলা ঠিক হবে না।

এদিকে ইসি সূত্র থেকে একটি খবর জানা গেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তুতিমূলক সভা ডাকা হয়েছে। এই সভা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, নৌপরিবহন, পররাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্থানীয় সরকার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি শিক্ষাপঞ্জি রয়েছে। এই পঞ্জি অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে। এই পরীক্ষা ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে শেষ হবে।

সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, ভোটের সময় নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনের কারণে পরীক্ষায় কোনো ব্যাঘাত ঘটুক তা সরকার চায় না। চলতি বছরের শেষ ভাগ এবং আগামী বছরের প্রথম দিকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা রয়েছে। এরপর রয়েছে রমজান ও ঈদ। এই সব বিষয় মিলিয়ে ভোটের সঠিক সময় বিবেচনা করা হবে। আজ আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই নিয়ে প্রস্তাব আসতে পারে।

ইসি ইতিমধ্যে একটি কাজ করেছে। তারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সাতটি ধাপের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি আপত্তি তুলেছিল। তারা জানায়, ওই সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। পরে ইসি সচিবালয়ও এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক ছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়ে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হতে পারে। এরপর ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এই সময় ধরে হিসাব করছে। রমজান ও ঈদের সময় সরকার নির্বাচন করতে চায় না।

ঈদের পরপরই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী এই পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ১৪ মার্চ। পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। আগে জানুয়ারি মাসে পরীক্ষা শুরুর একটি পরিকল্পনা ছিল। পরে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। পরীক্ষার এই সময়েও সরকার ভোট আয়োজন করতে চায় না।

শুধু ভোটের দিনটি পরীক্ষার বাইরে রাখলেই হবে না। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সময়ও হিসাব করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে সরকার এই সময়ে ভোট আয়োজনের পক্ষে নয়।

এসব বিষয় বিবেচনা করে সূত্রগুলো একটি কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, আগামী মে মাসের আগে নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। তবে মে মাসেই ভোট হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আজকের সভায় মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত পাওয়া যাবে। তারপর সম্ভাব্য সময় নিয়ে আরও স্পষ্ট কথা জানা যাবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত সোমবার ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ১২ নভেম্বর ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনায় আরও কিছু তারিখ ছিল। দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর ও তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী চার ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ছিল ১৭ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২২ এপ্রিল ও ২৭ মে।

এই সময়সূচি সামনে আসার পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কথা বলেন। মঙ্গলবারে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ঘোষিত তারিখগুলোর বিষয়ে সরকার অবহিত নয়। সময়সূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনের আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা ও বাজেটের বিষয় দেখে তারিখ ঘোষণা করা হয়।

একই দিনে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, আলোচিত তারিখগুলো একেবারেই প্রাথমিক। প্রস্তুতিমূলক আলোচনার ভিত্তিতে পাঁচটি মূল ধাপ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুটি অতিরিক্ত ধাপ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়েই সময়সূচি চূড়ান্ত হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভোটের তারিখও কমিশন ঠিক করে। তবে প্রস্তুতি ও সহায়তার জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। সেই আলোচনার জন্যই আজকের আন্তমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছে।

এদিকে একটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের মতে, বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। তিনি জানান, অনির্বাচিত প্রশাসকদের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হলে জনগণের ভোটাধিকার পিছিয়ে যাবে। তিনি দ্রুত একটি সময়বদ্ধ নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে ইসির সিদ্ধান্তে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার দাবি জানান।

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮০টি। এসব ইউনিয়নে সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২১-২২ সালে। প্রথম ধাপে ২০২১ সালের ২১ জুন ২০৪টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছিল। ওই ভোটের পাঁচ বছর ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। তবে সব সংস্থায় একই সময়ে নির্বাচন হয় না। উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২৪ সালে। জেলা পরিষদের নির্বাচন হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে। আবার ২০২৪ সালের আগস্টে ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করা হয়। সেখানেadministrator নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানে আগে ভোট হবে তা আলাদাভাবে ঠিক করতে হবে।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। এই সংক্রান্ত আইন ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।

মেয়াদ শেষ হওয়া ইউনিয়নগুলোর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। বরিশালের ১৯টি ইউনিয়নে কাজ চালানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক কাজ করছেন। নির্বাচন আগামী মে মাস পর্যন্ত পিছিয়ে গেলে নির্বাচিত প্রতিনিধি পেতে মানুষের অপেক্ষা আরও বেড়ে যাবে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)