ফাহিম ফারহাদ
বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা - স্পেন ছবি: এআই প্রণীত
দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর ফুরোচ্ছে। আগামীকাল ভোরে নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি স্পেন। একদিকে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের সামনে সুযোগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার, অন্যদিকে স্প্যানিশদের লক্ষ্য নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের মুকুট পরা।
ফাইনালে ওঠার পথে দুই দলের অভিজ্ঞতাই ছিল একেবারে ভিন্ন মেরুর। গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত আক্রমণভাগ নিয়ে খেলা আর্জেন্টিনা (এবারের আসরে সর্বোচ্চ ১৯ গোল) বারবার খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার অসাধারণ মানসিকতা দেখিয়েছে। মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুচাপ জয় করে নকআউট পার হওয়া, কিংবা সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লাউতারো মার্টিনেজের ৯২ মিনিটের জাদুকরী গোলে ২-১ ব্যবধানের অবিস্মরণীয় জয়—সব মিলিয়ে আলবিসেলেস্তেরা প্রমাণ করেছে তারা শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত হার মানতে নারাজ।
অপরদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত মাস্টারক্লাসে স্পেন দেখিয়েছে নিরেট রক্ষণ ও নিখুঁত ফুটবলের এক অনন্য প্রদর্শনী। পুরো আসরে প্রতিপক্ষকে মাত্র একবার বল জালে জড়ানোর সুযোগ দেওয়া স্প্যানিশরা নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো দলকে বিদায় করেছে। এরপর সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে নিজেদের আধিপত্যের শক্ত জানান দিয়েছে লা রোহারা।
এই মহারণ কেবল দুটি দেশের নয়, বরং দুটি ভিন্ন প্রজন্মের এক রোমাঞ্চকর উপাখ্যান। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা জাদুকর লিওনেল মেসি যখন চাইছেন আরেকটি রূপকথার জন্ম দিয়ে বিদায় নিতে, ঠিক তখনই স্পেনের বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল স্বপ্ন বুনছেন নতুন এক ফুটবল যুগের রচয়িতা হওয়ার। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলা মেসি ও ছোট্ট শিশু ইয়ামালের সেই পুরোনো ছবিটি যেন এই ফাইনালের আবহে যোগ করেছে এক দারুণ নস্টালজিয়া ও নাটকীয়তা।
মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি এবারের ফাইনাল ইতিহাসে জায়গা করে নিচ্ছে আরেকটি বিশেষ কারণে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দেখা যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'সুপার বোল' ঘরানার জমকালো মেগা হাফ-টাইম শো। ফিফার বিশেষ পরিকল্পনায় ১৫ মিনিটের চিরাচরিত বিরতি বাড়িয়ে প্রায় ২৫ মিনিট করা হয়েছে, যা নিয়ে গোটা ক্রীড়াবিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা। কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের তারকা ক্রিস মার্টিনের নির্দেশনায় এই বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত শাকিরা, জাস্টিন বিবার এবং বিটিএস-এর মতো বিশ্বখ্যাত সুপারস্টাররা।
সব মিলিয়ে স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের বাঁশিতে আগামীকাল যখন খেলা শুরু হবে, তখন পুরো বিশ্বের নজর থাকবে আর্জেন্টিনার ভয়ংকর আক্রমণভাগ এবং স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণের লড়াইয়ের দিকে। তেকাঠির নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স এবং উনাই সিমোনের ইস্পাতদৃঢ় দেয়ালের দ্বৈরথও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এখন কেবলই ক্ষণগণনা—ফুটবল বিধাতা কি মেসির হাতেই তুলে দেবেন টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের মুকুট, নাকি অপ্রতিরোধ্য স্পেনের হাতে উঠবে বিশ্বজয়ের শিরোপা? কোটি ভক্তের এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টার রোমাঞ্চের মাঝেই।