বিবিসি
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে টানা ২০ দিন অনশনে থাকার পর পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতাল নিয়ে গেছে পুলিশ। শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে তার অনশনস্থল থেকে তাকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে ছিলেন। সংগঠনটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নৈতিক দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।
শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য অনশনস্থলে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওয়াংচুককে কাপড় দিয়ে আড়াল করে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তার স্বামীকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, পরিবারের সম্মতি ছাড়া ওয়াংচুককে মুখে বা শিরায় কোনো ওষুধ বা তরল দেওয়া যাবে না।
সফদরজং হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট চারু বাম্বা জানিয়েছেন, ওয়াংচুক পুরোপুরি সচেতন আছেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং সামান্য পানিশূন্যতায় ভুগছেন। তবে তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল রয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের উপকমিশনার সচিন শর্মা বলেন, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বিবেচনায় নিয়েই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে স্বাস্থ্যগত অবস্থা খারাপ হলেও ওয়াংচুক অনশন ভাঙতে রাজি হননি। এমনকি আগামী সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার পরিবর্তে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়া হলেও আন্দোলন থামবে না। সোমবার নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা হবে।
সিজেপি চলতি বছরের মে মাসে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে এটি গণআন্দোলনের রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
এদিকে ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিরোধী দলের কয়েকজন সাংসদ তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রীয় জবরদস্তির একটি উদাহরণ।