ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্পিকার ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
প্রধানমন্ত্রী শোক বার্তায় বলেন, “সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ৫২’ র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি। ”
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।
বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।
শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মরহুমের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।’
একই সঙ্গে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা
সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে নিজ দলের নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ানোয় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শফিকুর রহমান।
আজ রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির।
ফেসবুকের পোস্টে শফিকুর রহমান লিখেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দসহ যাঁদের ওপর আইনি জুলুম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সে সময় তিনি (ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার) আমাদের প্রতি পরম সহানুভূতিশীল ছিলেন। নানা বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।’
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ালেও কখনো তিনি ফি নেননি বলে জানান বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁর কাছে গভীর কৃতজ্ঞ।’
শফিকুর রহমান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের পরকালীন কল্যাণ কামনা করেন। একইসঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের জন্য দোয়া করেন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রজীবন থেকেই ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা গুটিকয়েক আইনজীবীদের অন্যতম ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন অঙ্গন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতা সর্বমহলে প্রশংসিত ছিল।
২০০২ সালে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার বিকাশে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশের রাজনীতি, সংসদীয় চর্চা এবং আইন অঙ্গনে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।