Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রাজধানীতে সর্ব ধর্মীয় ঐক্য ফোরামের শান্তি সম্মেলন

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুলাই,২০২৬, ১২:২৭ পিএম
রাজধানীতে সর্ব ধর্মীয় ঐক্য ফোরামের শান্তি সম্মেলন

রাজধানীর ধানমন্ডির ইমানুয়েল কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য ও শান্তি সম্মেলন ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য ও মানবকল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রত্যয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ইমানুয়েল কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য ও শান্তি সম্মেলন–২০২৬'। আজ শনিবার (১১ জুলাই) সর্ব ধর্মীয় ঐক্য ফোরামের (এআরইউএফ) উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন ধর্মের বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. প্রফেসর এম. মাইনুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. আবু সামসুদ, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ঢাকার পরিচালক স্বামী অনন্ত, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশপ সুব্রত মণ্ডল এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ও বিশিষ্ট হিন্দু ধর্মীয় লেখক প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সর্ব ধর্মীয় ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান এইচ. এম. বরকতউল্লাহ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ফাদার আলবার্ট রোজারিও, ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন রানা, বুদ্ধানন্দ মহাথেরো ও বেনজির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জেসন অধিকারী, যুগ্ম সম্পাদক মুফতি আলামিন খান, কোষাধ্যক্ষ নিখিল হালদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এনামুল করিম, দপ্তর সম্পাদক সেতু মহালী, কার্যনির্বাহী বোর্ড সদস্য রিপন ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর আলম, নিকোলাস হীরা, ভদন্ত অশিতরক্ষিত থেরো এবং শিশু কল্যাণ বিষয়ক সদস্য ডা. কল্পনা হালদার।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ধর্মের ভিন্নতা কোনো বিভেদের কারণ নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ভিত্তি। পৃথিবীতে হাজারো ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ বসবাস করলেও সকল মানুষের মর্যাদা ও অধিকার সমান। প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, সবার আগে মানুষ, তারপর তার পরিচয়। ধর্মের নামে বিদ্বেষ, সহিংসতা ও বৈষম্যের কোনো স্থান সমাজে নেই। পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মই সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানবসেবার শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মকে বিভেদের নয়, মানবকল্যাণের শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

বক্তারা বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তি, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তারা বলেন, যুদ্ধের কোনো প্রকৃত বিজয়ী নেই; এখানে পরাজিত হয় সমগ্র মানবসভ্যতা। তাই অস্ত্রের ভাষার পরিবর্তে আলোচনার ভাষা গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তারা বলেন, এই দেশে মসজিদের আজান, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি, গির্জার প্রার্থনা ও বৌদ্ধ বিহারের শান্তির বাণী যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি উচ্চারিত হয়ে আসছে। এই ঐতিহ্য রক্ষায় সকল ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এ সময় সর্ব ধর্মীয় ঐক্য ফোরামকে কেবল আলোচনা সভায় সীমাবদ্ধ না রেখে রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অসহায় মানুষের সহায়তা ও দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধ নয় শান্তি, ঘৃণা নয় ভালোবাসা, বিভেদ নয় সম্প্রীতি এবং মানবকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সাথে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সঙ্গে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)