ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের কেশবপুরে হরিহর নদ খননের পর টানা ভারী বর্ষণে পাড় ধসে ভেঙে পড়েছে চারটি বসতঘর। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে বসতঘরগুলো ভেঙে যায়। এতে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়েছে দুটি পরিবার।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসানা খাতুন। এ সময় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বলেন, সকালে হঠাৎ করেই তীরের মাটি ধসে পড়তে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরগুলো ভেঙে যায়।
সর্বস্ব হারানো বিল্লাহ হোসেন বলেন, মুহূর্তের মধ্যে চোখের সামনে ঘরটা ধসে পড়ল। জীবনের সব সঞ্চয় শেষ। পরিবার নিয়ে এখন কোথায় দাঁড়াব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ফারুক হোসেন বলেন, বাড়িটিই ছিল আমাদের একমাত্র আশ্রয়। এখন খোলা আকাশের নিচে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সাহায্য পেয়েছি, কিন্তু আমাদের একটা স্থায়ী ঠিকানা দরকার।
ঘটনার পর পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসানা খাতুন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণের ফলে কেশবপুর পৌর শহরে আবারও তীব্র জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে ইতোমধ্যেই পানি জমতে শুরু করায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আগামী কয়েকদিনে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করতে পারে।