ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন। পুরো ম্যাচ জুড়ে বল দখল এবং আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্প্যানিশ আর্মাডারা শেষ পর্যন্ত যোগ্য দল হিসেবেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে কোণঠাসা ছিল বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে স্পেনের পক্ষে প্রথম ডেডলক ভাঙেন তারকা ফুটবলার ফাবিয়ান রুইজ। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি। তবে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় বেলজিয়াম। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, ৪১তম মিনিটে ডি কেটেলিয়ারে চমৎকার এক গোল করে বেলজিয়ামকে ১-১ সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে দু'দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে স্পেন একের পর এক আক্রমণ করে বেলজিয়ামের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কিছু মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৮তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। স্পেনের মিকেল মেরিনো অসাধারণ এক গোল করে গ্যালারিতে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকদের উল্লাসে ভাসান। এই গোলের সুবাদেই ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে পরিষ্কার বোঝা যায় ম্যাচের নাটাই ছিল স্পেনের হাতেই। ৬৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল স্প্যানিশরা। তারা মোট ৬৬৩টি পাস খেলেছে, যার নির্ভুলতার হার (পাস অ্যাকুরেসি) ছিল ৯১ শতাংশ। অন্যদিকে বেলজিয়াম মাত্র ৩২ শতাংশ বল পজিশন ধরে রাখতে পেরেছিল এবং তাদের মোট পাসের সংখ্যা ছিল ২৯৫টি। পুরো ম্যাচে বেলজিয়াম মাত্র ৫টি শট নিতে পেরেছিল, যার মধ্যে মাত্র ২টি ছিল অন টার্গেট। অপরদিকে স্পেন ১৮টি শটের মধ্যে ৮টিই টার্গেটে রেখে বেলজিয়ামের গোলরক্ষককে প্রতিনিয়ত পরীক্ষায় ফেলেছে।
আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি ম্যাচে কিছুটা আগ্রাসী মনোভাবও দেখা গেছে। বেলজিয়াম ম্যাচ জুড়ে ১৮টি ফাউল করেছে এবং স্পেন করেছে ১৩টি। উভয় দলের খেলোয়াড়েরাই ২টি করে হলুদ কার্ড (ইয়েলো কার্ড) দেখেছেন। তবে কোনো লাল কার্ডের (রেড কার্ড) ঘটনা ঘটেনি।ম্যাচের এক পর্যায়ে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের কিংবদন্তী গোলকিপার থিবো কর্তোয়া। দুর্দান্ত এই জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।