ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ডালাসের কানায় কানায় পূর্ণ ৮০ হাজার দর্শকের স্টেডিয়ামে পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে রাজকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন লিওনেল মেসি। তাঁর জাদুকরী জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে 'জি' গ্রুপের শীর্ষস্থান মজবুত করল আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া। গ্রুপের বাকি দুই দল জর্ডান ও আলজেরিয়া এখনও কোনো পয়েন্টের দেখা পায়নি।
ম্যাচের শুরুতেই নাটকীয়তার আভাস মেলে। ৪ মিনিটে বক্সের ভেতর আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজকে অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ ফাউল করলে ভিএআরের (VAR) সাহায্যে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। ৯ মিনিটে স্পট কিক নিতে আসেন লিওনেল মেসি, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে শটটি পোস্টের ডান দিক দিয়ে বাইরে মারেন তিনি। ক্যারিয়ারের ৩৩তম পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপে এককভাবে সবচেয়ে বেশি ৩টি পেনাল্টি মিসের এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন এই মহাতারকা।
তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটেই ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। বাঁ প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার দুর্দান্ত ক্রসে থিয়াগো আলমাদা দারুণ এক ডামি করেন। অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জাল কাঁপান অধিনায়ক মেসি। এই চোখ জুড়ানো গোলের মাধ্যমে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৭ গোলের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সঙ্গে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর পর বিশ্বকাপের টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কীর্তিতে ভাগ বসান মেসি।
দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়ার শক্তিশালী মিডফিল্ড আর্জেন্টিনার চিরায়ত মাঝমাঠের আক্রমণ ব্যাহত করার চেষ্টা করে। রালফ রাংনিকের দল ছকে কষা ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনাকে উইং দিয়ে খেলতে বাধ্য করলেও স্কালোনির রক্ষণ ও আক্রমণভাগের কৌশলের সামনে সুবিধা করতে পারেনি। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করায় ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে তুলে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে মাঠে নামান কোচ। এরপর ৬৫ মিনিটে আক্রমণ আরও জোরদার করতে লাওতারো মার্তিনেজ ও এনজো ফার্নান্দেজের পরিবর্তে নামানো হয় হুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেসকে।
ম্যাচের শেষ দিকে ৮১ মিনিটে মেদিনা ও দি পলকে উঠিয়ে নিকোলাস তালিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামিয়ে রক্ষণভাগ আরও নিরেট করে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ তখনও বাকি ছিল।
নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের খেলা (৯৫ মিনিট) চলছিল। অস্ট্রিয়ার বক্সের ভেতর তৈরি হয় তুমুল উত্তেজনা। প্রথমে বদলি খেলোয়াড় আলভারেজের শট অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল পেয়ে মেসি এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শট নিলেও তা অন্য এক ডিফেন্ডার রুখে দেন। কিন্তু আলগা বলটি আবারও মেসির পায়ে এলে এবার আর কোনো ভুল করেননি তিনি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ২ ম্যাচে ৫ম গোল, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। ড্যালাসের গ্যালারিতে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মারিও কেম্পেসের উপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার এই দাপুটে জয় এবং মেসির রেকর্ড ভাঙার রাতটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অনন্য হয়ে থাকবে।