ক্রীড়া ডেস্ক
ইনজুরি টাইম ৯০+৫ মিনিটে ডিবক্সের ভেতর অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়দের ফাঁক গলে বল জালে জড়ান মেসি ছবি: রয়টার্স
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করলো আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ ‘জে’-এর এই জমজমাট লড়াইয়ে পুরো ম্যাচজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই—লিওনেল মেসি। জোড়া গোল করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি এদিন রেকর্ডের খাতায় নতুন ইতিহাস লিখেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
পেনাল্টি মিসের হতাশা ও অনন্য রেকর্ড
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে পারত আর্জেন্টিনা। খেলার ঠিক ৮ মিনিটের মাথায় একটি পেনাল্টি পায় তারা। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হলেন তিনি। বিশ্বমঞ্চে এটি তার ৩ নম্বর পেনাল্টি মিস, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। তবে এই হতাশার মাঝেও পেনাল্টি থেকে গোল করার একটি দারুণ পরিসংখ্যান রয়েছে তার নামের পাশে; বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে মোট ৪টি সফল গোল করেছেন তিনি।
মেসি ম্যাজিকে ম্যাচের ভাগ্যবদল
শুরুর ধাক্কা সামলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অধিনায়ক। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ ইনজুরি টাইমের ৯০+৫ মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করে অস্ট্রিয়ার ম্যাচ ফেরার সব আশা শেষ করে দেন তিনি।
এই জোড়া গোলের ওপর ভর করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চে এখন তার মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ১৮-তে, যা তাকে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
পরিসংখ্যানে দুই দলের লড়াই
ম্যাচের স্ট্যাটস বা পরিসংখ্যানও বলছে আর্জেন্টিনার আধিপত্যের কথা। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ পজিশন বা বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার ৬টি শটের বিপরীতে তারা শট নিয়েছে ১২টি, যার মধ্যে ৩টি ছিল শটস অন টার্গেট। ম্যাচজুড়ে আলবিসেলেস্তেরা ৫৩৮টি পাস খেলেছে, যার পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৯০ শতাংশ। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া ৪৪০টি পাস দিলেও তাদের পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৮৭ শতাংশ। ফাউলের দিক থেকে দুই দলই ছিল বেশ আগ্রাসী—আর্জেন্টিনা ১৩টি এবং অস্ট্রিয়া ১২টি ফাউল করেছে। দুই দলের খেলোয়াড়রাই ২টি করে ইয়োলো কার্ড বা হলুদ কার্ড দেখেছেন।
মেসির এই রেকর্ডময় রাত এবং দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে গ্রুপ টেবিলের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট স্টেজে যাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।