নিজস্ব প্রতিবেদক
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভাকক্ষে সোমবার সকালে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন এবং হাসপাতালের চারপাশের শৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ সুন্দর রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম নোংরা থাকায় অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না। এগুলো সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এছাড়া যেসব স্কুলের মাঠে পানি জমে থাকে, সেগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করে যাতায়াতের উপযোগী করার নির্দেশ দেন তিনি।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান সভায় জানান, বর্তমানে পৌর এলাকার ৩০টি স্থানে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বকেয়া ও নিয়মিত কর আদায়ে পৌর কর মেলা শুরু করা হয়েছে এবং এতে নাগরিকদের ব্যাপক সাড়া মিলছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডাস্টবিন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে নাগরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ডাস্টবিনে কেউ ময়লা ফেলতে পারবে না বলে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বরাদ্দ পাওয়া গেলেই নীলগঞ্জ তাঁতী পাড়ার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
জেলায় ডেঙ্গু ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তুলে ধরে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক জানান, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি।
ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন: প্রত্যেক বাড়ি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে সচেতন হতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না এবং সবাইকে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে জুম্মার নামাজের খুতবার সময় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত প্রচার চালাতে হবে।
এছাড়া উপজেলার হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্ক রোগের পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়াত হাসপাতালের সামনের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের সামনে যত্রতত্র ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা প্রয়োজন।
শিক্ষার উন্নয়নে জেলা পরিষদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নে জেলা পরিষদ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বর্ষায় বা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই সমস্যা সমাধানে নিচু মাঠগুলোতে মাটি ফেলে দ্রুত ভরাট করার আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন:সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শাহীন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন,
কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুল ইসলাম,এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মেদ মাহবুবুর রহমান, চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূপালী সরকারসহ সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ধ্রুব/টিএম