ক্রীড়া ডেস্ক
মরক্কোর মাঝমাঠে আলাদা ভাবে নজর কেড়েছেন আয়ুব বুয়াদ্দি ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের তারকাখচিত স্কোয়াডের বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছেড়েছে মরক্কো। সেলেসাওদের বিপক্ষে এই দুর্দান্ত ড্রয়ের পেছনে আলাদাভাবে চোখ কেড়েছে মরক্কোর নাম্বার সিক্স আয়ুব বুয়াদ্দির পারফর্মেন্স। কাগজে-কলমে বয়স মাত্র ১৮ হলেও, মাঠের আইকিউ আর ম্যাচুরিটিতে তাকে মনে হয়েছে ৩০ বছরের কোনো এলিট মিডফিল্ডার।
ফ্রান্সের হয়ে খেলার প্রস্তাব রিজেক্ট করে মরক্কোকে বেছে নেওয়াটা বুয়াদ্দির ক্যারিয়ারের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ও ব্লেসিং বলা চলে। ফ্রান্সে থাকলে হয়তো ২০৩০ এর বিশ্বকাপ প্ল্যানিংয়ে থাকতেন, কিন্তু এই অল্প বয়সেই মরক্কোর জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে কিছু করে দেখানোর সুযোগ তিনি হাতছাড়া করেননি।
ব্রাজিলের মতো হেভিওয়েট দলের শক্তিশালী ফরোয়ার্ডদের হাই-প্রেসিংয়ের মুখেও পুরো ম্যাচে একটাবারও বল পজেশন হারাননি বুয়াদ্দি। মরক্কোর বিল্ডআপ প্লে-তে তিনি ছিলেন মূল কারিগর। টাইট সিচুয়েশনেও প্যানিক না করে দারুণ ঠাণ্ডা মাথায় বল ডিল করেছেন। তার মুভমেন্ট, বডি ফেইন্ট, বল ক্যারিং এবিলিটি এবং পাসিং—সবকিছুই ছিল এলিট লেভেলের।
ফ্যান্সি বা ঝুঁকিপূর্ণ পাস না খেলে সবসময় দলের স্বার্থে ক্লিন পাস দিয়েছেন বুয়াদ্দি। তার শর্ট পাসগুলোর নিখুঁত টাইমিং ছিল চোখে পড়ার মতো। বল রিসিভ করে টার্ন নেওয়া কিংবা বল প্রোগ্রেসিং—সবকিছুতেই ছিল দক্ষতার ছাপ। বুয়াদ্দির ৩৬০ ডিগ্রী স্ক্যানিং পাওয়ার এবং অ্যাডভান্সড গেম রিডিংয়ের কারণে ফুটবলপ্রেমীরা তার মাঝে বার্সেলোনা লিজেন্ড জাবির ভাইব খুঁজে পেয়েছেন
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে মরক্কোর হয়ে সর্বোচ্চ টাচ এবং সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড গড়েছেন বুয়াদ্দি। একই সাথে ফাইনাল থার্ডে শতভাগ একুরেসি বজায় রেখে পাস প্রোভাইড করা, সবচেয়ে বেশি বল ক্যারি করা এবং সবচেয়ে বেশি গ্রাউন্ড ডুয়েল জেতার কৃতিত্বও তার। এই অনবদ্য পারফর্মেন্সের পর বলাই যায়—আসন্ন ট্রান্সফার মার্কেটে বড় বড় ক্লাবগুলোর জন্য হট কেইক হতে যাচ্ছেন আঠারো বছর বয়সী এই তরুণ।