বাঁকড়া (যশোর) প্রতিনিধি
পুরো পরিবারকে হারিয়ে নির্বাক শহিদুল ইসলাম ছবি: ধ্রুব নিউজ
দীর্ঘ ১৪টি বছর। একটা যুগেরও বেশি সময়। পরবাসের কঠিন জীবনে বুক বেঁধে রাখা একটাই আশায়—একদিন নিজের মাটিতে, নিজের মানুষের কাছে ফিরবেন রাকিব। সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে যখন তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছুঁয়েছিলেন, তখন মায়ের চোখের আনন্দাশ্রু আর ভাই-বোনের হাসিমুখ যেন ১৪ বছরের সব ক্লান্তি এক নিমিষে ধুয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কে জানত, এই পরম আনন্দের মুহূর্তটিই হতে যাচ্ছে একটি পরিবারের শেষ যাত্রা!
আরো পড়ুন :
প্রবাসী ছেলেকে নিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, ঝিকরগাছার একই পরিবারের ৪জনসহ নিহত ৫
আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা, ভাই ও বোনসহ প্রাণ হারিয়েছেন সেই প্রবাসী তরুণ রাকিব। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রাইভেট কারের চালক জাহিদও। এক নিমিষেই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন।
রাকিবের সাথে তার মা নুরজাহান, ভাই আরিফ ইসলাম, আয়েশা বেগম; পিতা শহিদুল ইসলাম বাদে পরিবারের সবাই পরপারের যাত্রী হয়েছেন। তাদের বাড়ি যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বাগাডাঙ্গা(উজ্জ্বলপুর) গ্রামে। নিহত প্রাইভেট কারের চালক জাহিদের বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা গ্রামে। এই ঘটনায় আয়েশা বেগমের দুই অবুঝ শিশু আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩) গুরুতর আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওদিকে ঝিকরগাছার উজ্জ্বলপুর গ্রামে বাড়ির কর্তা শহিদুল ইসলাম অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। ১৪ বছর পর ছেলে ফিরবে, পুরো পরিবার একসাথে হবে—কত শত আয়োজন, কত আনন্দ! কিন্তু ভোর হতেই সেই আনন্দের বাড়ি পরিণত হলো এক শূন্যতায়। এক যাত্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়ে স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ পিতা এখন বাড়ির উঠোনে বসে শুধু লাশের অপেক্ষা করছেন।
নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস, যে ছেলেকে বরণ করে ঘরে তোলার কথা ছিল, আজ তাকেসহ পুরো পরিবারকে চিরবিদায় দেওয়ার জন্য খাটিয়া প্রস্তুত করতে হচ্ছে বৃদ্ধ পিতাকে। এই নির্মম ট্রাজেডিতে পুরো উজ্জ্বলপুর গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে এক স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ শোকের ছায়া। কোন সান্ত্বনাতেই থামছে না প্রতিবেশীদের চোখের জল।