বেনাপোল প্রতিনিধি
ভারতের বিভিন্ন কারাগারে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ৩৬ বাংলাদেশি নাগরিক। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সময়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এই ব্যক্তিরা। পরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলে আদালতের নির্দেশে তাঁদের বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্যোগে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ভারতের চেন্নাইয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অব চ্যান্সারি (এইচওসি) কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং তিরুচিরাপল্লী (আরবান) ফরেনার্স রিজিওনাল অফিসের (এফআরও) এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের দেশে ফেরানো হয়েছে। হস্তান্তরের সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ, পুলিশ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে მოქმედ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তিদের ট্রাভেল পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, রাইটস যশোর এবং বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা না আসা পর্যন্ত তাঁদের সংস্থার তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশই বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া ফেরত আসাদের মধ্যে সাতক্ষীরা, মুন্সিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন।