নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় লিয়াকত আলী বাবুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। ছবি: ধ্রুব নিউজ
স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় লিয়াকত আলী বাবুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে যশোরের একটি আদালত। তবে এ মামলার অপর আসামি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২০ মে) যশোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক ওয়াসিম শেখ এক রায়ে এই সাজা ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত লিয়াকত আলী বেনাপোলের দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক আছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোলের দৌলতপুর ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা ওই গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তায় অবস্থান নেন। এ সময় ভারতের দিকে যাওয়ার প্রাক্কালে সন্দেহভাজন হিসেবে লিয়াকত আলীকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে বিশেষ কায়দায় বেল্টের সাথে বেঁধে রাখা ১১টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ছিল ১১ ভরি।
এ ঘটনায় বিজিবির সুবেদার আব্দুল জলিল বাদী হয়ে আটক লিয়াকত ও পলাতক জিয়াউরের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় চোরাচালান দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফ হাবিবুর রহমান আসামি লিয়াকত আলী বাবুকে অভিযুক্ত করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার তথ্য না পাওয়ায় অপর আসামি জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। তবে পরবর্তীতে আদালত চার্জ গঠনের সময় দুজনকেই অভিযুক্ত করে বিচার শুরু করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামি লিয়াকত আলী বাবুর বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।