ক্রীড়া ডেস্ক
ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ার্ল্ড কাপে নিজের সেরাটাই দিতে চাইবেন রোনালদো ছবি: এ এফ পি
পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের ড্রেসিংরুমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব কতটা গভীর, তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন সতীর্থ ভিতিনিয়া। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, কীভাবে রোনালদো এখনো পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন। পর্তুগাল দলের সবার এখন একটাই স্বপ্ন—তাদের কিংবদন্তি অধিনায়কের সাথে এবং তার জন্যই বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরা।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য পরিবর্ধিত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পর্তুগাল দল। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে মাঠ মাতানো রোনালদো ক্যারিয়ারের শেষ গোধূলিলগ্নে এসেও জাতীয় দলের প্রধান চালিকাশক্তি। ফুটবল সংস্থা ফিফার সাথে আলাপকালে ভিতিনিয়া স্পষ্ট করে বলেন, পর্তুগালের ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হলো তাদের অধিনায়কের ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রফিটি তাকে এনে দেওয়া।
মাঠে রোনালদোর শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে বাইরে যতই সমালোচনা বা প্রশ্ন থাকুক না কেন, দলের ভেতর তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব এখনো অতুলনীয়। ভিতিনিয়া বলেন:
"তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তার সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে পারা, তার থেকে প্রতিদিন শেখা এবং তার পেশাদারিত্ব নিজের চোখে দেখা আমার জন্য ভীষণ গর্বের। আমি আশা করি, আমরা তার সাথে এবং তার জন্যই এই বিশ্বকাপটি জিততে পারব।"
পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ফুটবলকে রোনালদো যেভাবে দেখেন, সেটাই তাকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করে। তিনি অত্যন্ত পেশাদার এবং সিরিয়াস। কোনো কিছুতেই তিনি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন না। যখন তিনি মাঠে নামেন, শতভাগ প্রস্তুত হয়েই নামেন এবং দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেন।
বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নের কথা বললেও ভিতিনিয়া বাস্তবতাকে ভুলে যাননি। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই পথটি মোটেও সহজ হবে না। তাই দল এখনই ফাইনাল বা ট্রফি নিয়ে মেতে না থেকে ম্যাচ বাই ম্যাচ বা প্রতিটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়।
ভিতিনিয়া বলেন, "আমরা শুধু জিততে চাই। আমরা জানি এটা কঠিন হবে, তবে এখনই ফাইনাল বা ট্রফি উঁচিয়ে ধরার কথা ভেবে খুব বেশি লাভ নেই, যদিও সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এটাই সবসময় সেরা উপায়। আপাতত আমাদের পুরো মনোযোগ থাকবে গ্রুপ পর্বের ওপর। সেখানে ভালো করতে পারলে, এরপর আমরা পরের ধাপগুলো নিয়ে ভাবব।"
দলগত এই মানসিকতা এবং রোনালদোর মতো একজন অতিমানবীয় নেতার উপস্থিতি ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই বিশ্বমঞ্চে হাজির করছে, তা বলাই বাহুল্য।