ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ ছাড়া আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৬ জুন, চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেন। সম্মেলনের পর পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচিও সাংবাদিকদের দেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সময় বাঁচাতে তাঁদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো, পর্যায়ক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি বছরের ডিসেম্বর মাসে নেওয়া।
এর আগে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীসহ অংশীজনেরা বলেন ‘হুট করে’ ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়া ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ, এসএসসি পরীক্ষা আগামী বছরের জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুনে নেওয়া যেতে পারে। অংশীজনদের এই মতামতের পর এখন পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট সময় জানালেন শিক্ষামন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এসএসসি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রায় ৪০ লাখ পরীক্ষার্থীর লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক সময়ে এসএসসি পাস করতে একজন শিক্ষার্থীর ১৬ বছর এবং এইচএসসির জন্য ১৮ বছর লাগতে পারে। কিন্তু দেখা গেছে এইচএসসি পাস করতেই ২০ বছর লেগে যায়। অর্থাৎ জনমিতির হিসাবে জাতি ৪০ লাখ বছর পিছিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে চেষ্টা হচ্ছে পাঠ্যসূচি শেষ করা ও সেশন জট কমিয়ে আনা। গ্যাপ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা তাঁদের লক্ষ্য।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন যে ডিসেম্বর হলো পরীক্ষার জন্য আদর্শ মাস। এটা এসএসসি ও এইচএসসির। সেটাকে সামনে রেখে তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। তবে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। পবিত্র রমজানের কারণে আগে আগে শেষ করা হচ্ছে পরীক্ষা। আর এইচএসসি শুরু করা হবে ৬ জুন এবং শেষ করা হবে ১৩ জুলাই।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ আসছে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাঁরা আইন পরিবর্তন করে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা করছেন। আগামী সংসদ অধিবেশনে আইনের সংশোধনী পাস হতে পারে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত বর্তমানে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সুযোগ নেই। কেবল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ আছে। মানে খাতায় নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ-বিয়োগে ভুল আছে কি না বা গুরুতর কোনো ভুল আছে কি না, সেটা দেখা হয়।
এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। প্রতিবছর এ দুই পরীক্ষায় সারা দেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেন। বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে যে বছর দশম শ্রেণির ক্লাস শেষ করে, তার পরের বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। এইচএসসির ক্ষেত্রেও প্রায় একই অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির পর থেকে এ সূচি আর বজায় রাখা যাচ্ছে না; বরং আরও পিছিয়েছে। চলতি বছরের (২০২৬ সাল) এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল আর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে জুলাই মাসে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসি নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশের পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। গতকালের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সভায়ও ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে না নেওয়ার পক্ষে মত এসেছে। তবে পর্যায়ক্রমে তা ডিসেম্বরে আনা যেতে পারে বলেও মত উঠে আসে।
বর্তমানে দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাবর্ষ জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে শেষ হয়। তবে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় জুলাই মাসে। আবার দেশে উচ্চশিক্ষার সেশনও শুরু হয় জুলাই থেকে। তাই শিক্ষাবিদেরা বলে আসছেন, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা নেওয়া গেলে তা ইতিবাচক হবে। কিন্তু সেটি করতে হবে সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে।