ক্রীড়া ডেস্ক
ওয়াসিম খান ছবি: এএফপি
আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট) পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন ওয়াসিম খান। টানা চার বছর এই দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২২ সালের মে মাসে জিওফ অ্যালারডাইসের উত্তরসূরি হিসেবে আইসিসিতে যোগ দিয়েছিলেন ওয়াসিম খান। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, অ্যালারডাইস আইসিসির সিইও পদে উন্নীত হওয়ার পর ওয়াসিম এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি গ্রহণ করেছিলেন।
ক্রিকেট মাঠেও ওয়াসিম খানের ক্যারিয়ার ছিল উজ্জ্বল। প্রথম ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত মুসলিম হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার ৫৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ৩০টি লিস্ট-এ ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৫ সালে ওয়ারউইকশায়ারের কাউন্টি শিরোপাজয়ী অভিযানে তার গড় রান ছিল প্রায় ৫০।
প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে ওয়াসিম খান লেস্টারশায়ার কাউন্টির সিইও এবং ‘ক্রিকেট ফাউন্ডেশন’-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি ‘চান্স টু শাইন’ প্রকল্পটিকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেট চ্যারিটিতে রূপান্তর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
আইসিসিতে তার মেয়াদকালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল টি-টোয়েন্টি এবং টি-টেনের আধিক্যের মাঝে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি ঠিক রাখা। তবে তার সময়েই ২০২৩-২৭ চক্রের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) চূড়ান্ত হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া নারীদের ক্রিকেটের জন্য প্রথমবারের মতো আলাদা এফটিপি উন্মোচন ছিল তার অন্যতম বড় সাফল্য।
আগামী জুন মাসের শেষ দিকে আইসিসিতে তার সময়কাল শেষ হবে এবং জুলাই থেকে তিনি নতুন কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। গত দুই বছরে আইসিসির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিদায় নিয়েছেন। সিইও জিওফ অ্যালারডাইসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সঞ্জোগ গুপ্ত। এছাড়াও ইভেন্ট প্রধান ক্রিস টেটলি এবং দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালও পদত্যাগ করেছেন। তাদের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন যথাক্রমে গৌরব সাক্সেনা এবং অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ।