❒ ডিজেলের তীব্র সংকট
রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর ( ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে ডিজেল ও জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার কৃষক। তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কৃষকদের দীর্ঘ লাইন ও চরম ভোগান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর, শৈলকূপা ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেলের অপেক্ষায় ড্রাম ও গ্যালন নিয়ে শত শত কৃষক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত ডিজেল পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন, তাদেরও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম এবং রবি শস্যের সেচ কাজের জন্য ডিজেল অপরিহার্য। কিন্তু পাম্প মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
কোটচাঁদপুর এলাকার কৃষক আব্দুল শহিদ বলেন, সকাল ৬টায় আসছি তেলের জন্য, এখন দুপুর ১২টা বাজে কিন্তু এখনো সিরিয়াল পাইনি। জমিতে ধান পাকতে শুরু করেছে, এই সময়ে পানি আর মাড়াইয়ের জন্য ডিজেল না পাইলে সব শেষ হয়ে যাবে।"
অন্যান্য কৃষকরা জানান, তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো এলাকায় কালোবাজারে চড়া মূল্যে তেল বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ চাষিদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে তেলের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন। ঝিনাইদহ পাম্প মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি জানান, "আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ ডিমান্ড দিচ্ছি, তার অর্ধেকও পাচ্ছি না। ফলে কৃষকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।"
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে সেচ কাজ ও ধান মাড়াইয়ের যন্ত্রপাতির জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেলের প্রয়োজন হয়। এই মুহূর্তে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহে জ্বালানি সংকটে কৃষি অর্থনীতি হুমকির মুখে। কৃষকদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ধ্রুব/এস.আই