কবিতা
উৎসবময় বৈশেখটা
বৈশাখের দাবদাহে মাঠঘাট ফাটছে
অগ্নিস্রোতে জনজীবন ভাসছে।
ধনীগণ এসিরুমে মুচকি হাসছে
জীবনের তাগিদে গরীবেরা খাটছে।
ধুলিঝড় নেয়ে দেয় ঘামঝরা দেহটা
নিশ্বাস ফেলে চলে বুনো পশুপাখি টা।
কালমেঘ উড়ে শুধু আকাশের সিমানায়
নির্ঘুম রাত্রিটা একাকী জ্যোৎস্নাময়।
ফুল ফসলে ভরা নদী গিরি ঝর্ণাধারা
নিষ্প্রাণ তাপময় নিশ্চল গতিহারা।
সবুজ গালিচাঢাকা ছোট্ট এ দেশটা
মায়াময় ছায়াময় উৎসবময় বৈশেখ টা।।
বৈশেখের বার্তা
পিচঢালা রাস্তায় আগুনের ফুলকি
ধুলিঝড়ে চারিদিক লাগছে ভেলকি।
কাঁক ডাকে কা কা চৈত্রের দুপুরে
চারিদিক খা খা জল নেই পুকুরে।
শিল্পীর ক্যানভাস সবুজ ঐ মাঠটা
বাজিকর বনে গেল কৃষকের হাতটা।
পত পত শব্দে ঘুড়িগুলো উড়ছে
বাড়িঘর ছেড়ে সব উদ্যানে ছুটছে।
মহাজন দিয়ে গেল হালখাতার পত্র
দেনাদার হয়রান চিন্তায় মগ্ন।
কালোমেঘ নিয়ে এলো বৈশেখের বার্তা
পান্তা ইলিশ আর খাও আলুভর্তা।।
গাহি তোমারই গুণগান
কি মহিমায় সৃজিলে ধরনী
হে রহিম রহমান,
তোমারি কৃপায় বাঁচে এ প্রাণ
গাই তোমারই গুণগান।
তোমার দয়ায় সাহারার বুকে
ফোটে ফুল বাগিচায়,
তোমার ইশারায় ঝরনা ধারা
অভিরাম বয়ে যায়।
তোমার হুকুমে বৃক্ষ দেয়
সজীব প্রাণের ছোঁয়া,
গাছে গাছে কত ফুল ও ফসল
নয়ন জুড়ানো মায়া।
তোমার হুকুমে নক্ষত্ররাজি
ছুটে চলে নিজ অক্ষে,
মহারাজ থেকে মহানিস্ব
বানাও নিজ কর্মফলে।
তোমার আদেশে আকাশ বাতাস
ছুটে চলে মহাবিশ্ব,
বিন্দু থেকেই সিন্ধুর সৃষ্টি
কি তোমার সৃষ্টি রহস্য।
অতিক্ষুদ্র সৃষ্টির সেরা
মনুষ্যকূল ভবে,
নিবৃত কর শান্ত করো
ক্ষান্ত করো তবে।।