ক্রীড়া ডেস্ক
কেকেয়ার বনাম এলএসজি ছবি: সংগৃহীত
আইপিএল ২০২৬-এ এখন পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। চোটজর্জরিত বোলিং আক্রমণ আর ধারাবাহিকতাহীন পারফরম্যান্সে কোণঠাসা হয়ে পড়া কেকেআর আজ বৃহস্পতিবার ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) বিপক্ষে। একদিকে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লখনউয়ের বোলাররা, অন্যদিকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে থাকা কলকাতার ব্যাটাররা—সব মিলিয়ে লড়াইটা হতে যাচ্ছে মূলত ‘এলএসজি বোলিং বনাম কেকেআর ব্যাটিং’।
চলতি আসরে লখনউয়ের পাওয়ারপ্লে বোলিং এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা। দুই ম্যাচে তারা প্রথম ছয় ওভারে নিয়েছে ৭টি উইকেট, যেখানে ইকোনমি রেট মাত্র ৪.৫৮। ঠিক উল্টো চিত্র কেকেআরের ক্যাম্পে; তারা পাওয়ারপ্লে-তে ১১.২৯ রান রেটে দ্রুত গতিতে রান তুললেও উইকেট হারিয়েছে ৬টি। চোটের কারণে কেকেআরের মূল পেসাররা বাইরে থাকায় ব্যাটিংই এখন তাদের প্রধান শক্তি। তাই লখনউয়ের ধারালো বোলিং আক্রমণ সামলানোই হবে কলকাতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এলএসজি-র সাফল্যের নেপথ্যে নায়ক তরুণ পেসার প্রিন্স যাদব। গত মৌসুমে ৬ ম্যাচে ৩ উইকেট নেওয়া প্রিন্স এবার মাত্র ২ ম্যাচেই তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। হার্ড লেন্থ এবং নিখুঁত ইয়র্কারে তিনি ব্যাটারদের ব্যতিব্যস্ত রাখছেন। তার সঙ্গে অভিজ্ঞ মোহম্মদ শামি যোগ দেওয়ায় লখনউয়ের পাওয়ারপ্লে বোলিং হয়ে উঠেছে ভয়ংকর।
অন্যদিকে, কেকেআর এখনো একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। গত ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ায় ১ পয়েন্ট পেলেও সেখানেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল তারা (২৫ রানে ২ উইকেট)। তবে কলকাতার জন্য স্বস্তির খবর হলো, অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরছেন সুনীল নারিন। এছাড়া অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনও এই ম্যাচে বল করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য একাদশঃ কলকাতা নাইট রাইডার্সে সুনীল নারিন ফিরছেন রভম্যান পাওয়েলের জায়গায়। তবে বরুণ চক্রবর্তী আঙুলের চোটের কারণে এখনো অনিশ্চিত। যদিও অনুশীলনে তিনি পুরো স্পেল বল করেছেন। ফিন অ্যালেন, অজিঙ্কা রাহানে (অধিনায়ক), ক্যামেরন গ্রিন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিং, সুনীল নারিন, অনুকূল রায়, নভদীপ সাইনি, বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগী, ব্লেসিং মুজারাবানি।
লখনউ সুপার জায়ান্টস জয়ী দল হওয়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ঋষভ পন্থ তিন নম্বরে ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন। পেস আক্রমণে শামির সাথে থাকছেন প্রিন্স যাদব ও আবেশ খান। সম্ভাব্য একাদশে আছেন মিচেল মার্শ, এইডেন মার্করাম, ঋষভ পন্থ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), নিকোলাস পুরান, আয়ুশ বাদোনি, আব্দুল সামাদ, মুকুল চৌধুরী, এম সিদ্ধার্থ, আবেশ খান, মহম্মদ শামি, দিগ্বেশ রাঠি, প্রিন্স যাদব।
ম্যাচে বিশেষ নজরে থাকবেন বৈভব অরোরা (কেকেআর) যিনি গত মৌসুমে ১৭ উইকেট নিয়েছিলেন কিন্তু এবার ছন্দহীন। ২ ম্যাচে দিয়েছেন ওভারপ্রতি ১২.৩৭ রান। চোটজর্জর কেকেআর শিবিরে তাকেই এখন পেস ইউনিটের নেতৃত্ব দিতে হবে। মোহম্মদ শামি (এলএসজি)-র দিকেও তাকিয়ে থাকবেন ভক্তরা। পাওয়ারপ্লে-তে শামির ইকোনমি মাত্র ৪.০০। বাংলার ঘরের মাঠে কেকেআর সমর্থকদের স্তব্ধ করে দিতে চাইবেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
পরিসংখ্যানঃ
মোহম্মদ শামির বিপক্ষে অজিঙ্কা রাহানের রেকর্ড বেশ ভালো; আইপিএলে শামির বলে কখনো আউট হননি তিনি, স্ট্রাইক রেট ১৬৫।
সুনীল নারিনের সামনে দুর্বল আয়ুশ বাদোনি; মাত্র ৩ ইনিংসে ৪ বার নারিনের শিকার হয়েছেন তিনি।
খেলা হবে ইডেনের ৬ নম্বর পিচে, যা সাধারণত ব্যাটিং সহায়ক হয়। তবে সমর্থকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ আবহাওয়া। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। ফলে বৃষ্টির বাধায় ফের পণ্ড হতে পারে কেকেআরের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা।