আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের সংসদ ছবি: আরব নিউজ
তরুণ প্রজন্মকে অনলাইনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষায় এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তুরস্ক। ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশাধিকার সীমিত করতে দেশটির সংসদে মঙ্গলবার একটি খসড়া আইন প্যাকেজ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে তুরস্ক বিশ্বের সেই দেশগুলোর তালিকায় নাম লেখাল, যারা শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
প্রস্তাবিত এই বিলটি আইনে পরিণত হলে ইউটিউব, টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ১৫ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিতে পারবে না। এছাড়া প্রতিটি প্ল্যাটফর্মকে বাধ্যতামূলকভাবে বয়স-যাচাই ব্যবস্থা এবং ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ বা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম চালু করতে হবে। কোনো ক্ষতিকর বিষয়বস্তু নজরে এলে সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও বাধ্য করা হবে এই আইনের মাধ্যমে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের মতে, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ক্ষেত্রে অনলাইন ঝুঁকি কমিয়ে আনা। এ প্রসঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে তুরস্কের পরিবার ও সামাজিক পরিষেবা মন্ত্রী মাহিনুর ওজদেমির গোকতাস বলেছিলেন, ‘আমাদের সন্তানদের সব ধরনের ঝুঁকি, হুমকি এবং ক্ষতিকর বিষয়বস্তু থেকে রক্ষা করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
তবে এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)। তাদের মতে, শিশুদের কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নয়, বরং অধিকার-ভিত্তিক নীতির মাধ্যমে রক্ষা করা উচিত।
খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, অনলাইন গেম কোম্পানিগুলোকেও তুরস্কে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হবে যাতে তারা নতুন নিয়মকানুন মেনে চলে। আইন অমান্য করলে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ হ্রাস এবং তুরস্কের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক বড় অংকের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ভিন্নমত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে সীমাবদ্ধ করার এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও রয়েছে।
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে তুরস্ক একা নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই বিধিনিষেধ প্রথম শুরু করে, যার ফলে প্রায় ৪৭ লক্ষ অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হয়। গত মাসে ইন্দোনেশিয়াও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং ও অনলাইন স্ক্যাম থেকে রক্ষায় একই ধরনের নিয়ম কার্যকর করেছে। এছাড়া স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক দেশ শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশাধিকার সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। সূত্র : আরব নিউজ