Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হবে? সংসদে আলোচনা

বিডি নিউজ বিডি নিউজ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ,২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হবে? সংসদে আলোচনা

সংসদ অধিবেশন ছবি: সংগৃহীত

শফিকুর রহমানের দাখিল করা মুলতবি প্রস্তাবের নোটিসে বলা হয়, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে; ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে’ এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা প্রয়োজন।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের তোলা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধিতে এই আলোচনা শুরু হয়। এর আগে ২৯ মার্চ সংসদের বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, ৩১ মার্চ বিষয়টি নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।

মূলতবি প্রস্তাবের আলোচ্য বিষয়ে বলা হয়েছে, “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ (আদেশ নং-০১, ২০২৫) এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান প্রসঙ্গে।”

প্রস্তাবটি উত্থাপন করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ মার্চ পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলার পর স্পিকারের পরামর্শে তিনি যথাযথ নোটিস দেন, পরে তা আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি এটা সূচনা করার জন্য।”

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি; অতীতে ভোটে নির্বাচিত সরকার এলেও ভোটাধিকার বারবার খর্ব করা হয়েছে।”

তার ভাষ্য, গত সাড়ে ১৫ বছরে দেশে ‘প্রচণ্ড দুঃশাসন’ চালানো হয়েছে; বহু মানুষ গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ‘ধ্বংস’ করা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, এটি শুধু তরুণদের আন্দোলন ছিল না; কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, ছাত্রজনতা, এমনকি শিশু সন্তানকে নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন।

“জুলাইতে হয়েছিল যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের উপরে একটা দেশ কায়েম হবে যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে নাগরিক হিসেবে।”

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত হয় এবং সেই আলোকে রাষ্ট্রপতি একটি আদেশ জারি করেন।

“যে সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংসদে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়টিই এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে না।”

শফিকুর রহমান বলেন, “যেই আদেশটি আমি গতদিন সবিস্তারে পড়ে শুনিয়েছি। আজকে আর আমি সেইদিকে যাচ্ছি না। বিরোধী দল থেকে যারা বক্তব্য দেবেন, হয়ত সরকারি দল থেকেও দেবেন।

“আমরা যেহেতু এই নোটিসটি উত্থাপন করেছি, আমাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমার কথা আপাতত এখানে শেষ করছি।”

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর।

এরপর জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিরা একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি রেখেছিল সংসদ সচিবালয়।

জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিন সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান রোববার সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার কথা বলা হয় সেখানে।

সরকারি দল নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে এক পর্যায়ে অধিবেশনে হট্টগোলও হয়। পরে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে বলে রুলিং দেন।

শফিকুর রহমানের দাখিল করা মুলতবি প্রস্তাবের নোটিসে বলা হয়, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে; ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে’ এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা প্রয়োজন।

 

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)