❒ পিতৃহীন কলেজছাত্রীর সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
“মাঝে মাঝে মনে হয়, এভাবে পালিয়ে বেঁচে থাকার কোনো মানে হয় না। তার চেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়াই শ্রেয়। কিন্তু পরক্ষেই বিবেকের তাড়নায় আবার পিছিয়ে আসি...।” আজ প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথাগুলো বলেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী কাজলী রেখা (ছদ্মনাম)। পিতা হারানোর পর থেকে মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে সংগ্রাম করে চলা এই তরুণী স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মাদক ও বখাটে চক্রের কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শার্শার বাগআঁচড়া (ঘোষপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল হোসেনের কন্যা কাজলী রেখা। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে অসহায় মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মো: ইমন হোসেন (২৬), আলী আহম্মেদ (৫৫) এবং মো: আয়ুব হোসেন (৬০)-এর নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নানাভাবে উত্যক্ত ও নির্যাতন করে আসছেন বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, কলেজে যাওয়া-আসার পথে বখাটেদের নিয়মিত ইভটিজিং ও কুরুচিপূর্ণ আচরণে তার স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর সকালে বাজারে যাওয়ার পথে আলী আহম্মেদ ইমন হোসেন তার পথরোধ করে জোরপূর্বক ওড়না ছিনিয়ে নেয় এবং অকথ্য ভাষায় হেনস্তা করে। এই ঘটনার পর তিনি শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় অভিযোগ করার পর বখাটেরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তার উচ্চশিক্ষার কোচিং ও পড়াশোনা এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রতিনিয়ত ভয় ও আতঙ্কে কাটছে তাদের দিন।
সংবাদ সম্মেলনে কাজল রেখা বলেন, “আমার মতো এক কলেজছাত্রীর জীবন যদি একটি মাদক চক্রের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আমরা কোথায় যাব? আমি আমার মা ও ভাইয়ের পাশে থেকে সাধারণ দশটি মেয়ের মতো বেঁচে থাকতে চাই। এই সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের হাত থেকে আমাকে রক্ষা করুন।”