Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শিশুদের শৈশব রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, নিজেদের অর্থে খেলার মাঠ কিনল টাঙ্গাইলের বাবুপুরবাসী

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর,২০২৬, ০১:০৭ পিএম
শিশুদের শৈশব রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, নিজেদের অর্থে খেলার মাঠ কিনল টাঙ্গাইলের বাবুপুরবাসী

যুবকেরা অর্থদাতা ও প্রবীণ মুরুব্বিদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানান ছবি: সংগৃহীত

চারপাশের যান্ত্রিক ও নেতিবাচক খবরের ভিড়ে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর গ্রাম থেকে এসেছে এক অনন্য আনন্দের বার্তা। দীর্ঘদিনের শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠের আক্ষেপ ঘুচাতে গ্রামের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কেনা হয়েছে ৬০ শতাংশ জমি। সমাজের সব স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ এখন পুরো অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

​সাড়ে তিন হাজার মানুষের জনবহুল বাবুপুর গ্রামে প্রায় সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। এর একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে শিশু, কিশোর ও তরুণেরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, গ্রামে স্থায়ী কোনো খেলার মাঠ ছিল না। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময় ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলতে পারলেও, ফসলের আবাদ শুরু হতেই সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যেত। বছরের পর বছর ধরে এই মাঠের সংকটের মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠছিল গ্রামের পরবর্তী প্রজন্ম।

​মাঠের এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এর আগেও বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। তবে এবার গ্রামের কৃতিসন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদসহ কয়েকজন তরুণ নতুন উদ্যমে মাঠে নামেন। তাঁরা স্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলমের পরামর্শ নিয়ে গ্রামের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। সকলের ইতিবাচক সাড়ার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হয় এক আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা, যেখানে গ্রামবাসী একাট্টা হয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের স্বার্থে খেলার মাঠ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

​সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই শুরু হয় গণতহবিল সংগ্রহ। গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রবাসীরাও এই মহৎ উদ্যোগে সাধ্যমতো হাত বাড়িয়ে দেন। কেউ দিয়েছেন ২০০ বা ৫০০ টাকা, কেউ ১ হাজার, আবার সামর্থ্যবানরা দিয়েছেন ২, ৫ কিংবা ১০ হাজার টাকা। ছোট-বড় সবার এই সম্মিলিত অর্থায়নই উদ্যোগটিকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।

​এদিকে জমির মালিক ইকবাল হোসেন সুজন ৬০ শতাংশ জমি ৫২ হাজার টাকা শতাংশ দরে বিক্রি করতে সম্মত হন। তবে মানবিক কারণে তিনি পুরো ৬০ শতাংশের দাম নেননি; ৫৯ শতাংশ জমির মূল্য রেখে বাকি ১ শতাংশ জমি স্বেচ্ছায় দান করে মহত্ত্বের পরিচয় দেন।

​সর্বশেষ জমিসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে বাদ্যযন্ত্রের আনন্দের ধ্বনিতে মালিকের কাছ থেকে মাঠ বুঝে নেন গ্রামবাসী। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের প্রতীক হিসেবে মাঠের মাঝখানে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। লাল-সবুজের পতাকা বাতাসে ওড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন গ্রামবাসী। এ সময় যুবকেরা অর্থদাতা ও প্রবীণ মুরুব্বিদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানান। সারাদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় এই ঐতিহাসিক অর্জন।

​উদ্যোক্তারা এখানেই থেমে থাকতে চান না। মাঠের পরিধি আরও বাড়াতে এর পাশেই আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। হয়তো একদিন এই মাঠ থেকেই জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতি কুড়াবে কোনো উজ্জ্বল তরুণ। তবে তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি হলো বাবুপুরের শিশুরা এখন থেকে প্রাণখুলে দৌড়ানোর, খেলার এবং সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার স্থায়ী ঠিকানা পেল। বাবুপুরবাসীর এই জয়যাত্রা কেবল একটি জমি কেনার গল্প নয়, এটি তিল তিল করে একটি সুন্দর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অনুপ্রেরণাদায়ক উপাখ্যান।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সম্পর্কিত

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)