তহীদ মনি
ছবি: সংগৃহীত
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোর বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৪৪.৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন। ফেলের কারণ হিসেবে ইংরেজিতে পাস না করাকে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী। মোট পাস করেছে ৫০ হাজার ৬৮৮ জন।
গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। এ বছর শতভাগ ফেলের কলেজ ১৬টি, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৩টি কলেজ।
গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০.২০ শতাংশ, মোট পাস করেছিল ৫৬৫৫০৯ জন।
বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের খাতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসেছে বোর্ড। পাসের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে পাসের মানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একসময় শিক্ষার্থীরা মনে করত পরীক্ষা দিলেই পাস হয়, এখন বই পড়ে পরীক্ষা দিতে হয় নকলমুক্ত পরিবেশে। এ বছর ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমেছে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য মতে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ৬৮৮ জন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষার্থী, পাসের হার ৭০.০৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন। মানবিক বিভাগ থেকে পাস করেছে ৩০ হাজার ১৯১ জন, পাসের হার ৩৮.২১ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন, পাসের হার ৪৩.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন।
জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ১ হাজার ১৭ ও মেয়ে ৮৪১ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে ২৬৮ ও মেয়ে ৮৯৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছেলে ৭৩ ও মেয়ে ১৩২ জন।
চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৭১.৮২ শতাংশ, ছেলেদের পাসের হার ৬৮.২৬ শতাংশ। মানবিক বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৪৪.৮৩ শতাংশ এবং ছেলেদের পাসের হার ৩০.৬৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৪৯.৯৪ শতাংশ এবং ছেলেদের পাসের হার ৩৯.৪২ শতাংশ। সে হিসেবে সব বিভাগেই পাসের হারে মেয়েদের প্রাধান্য রয়েছে। তবে শুধু জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বিজ্ঞানে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা বেশি এগিয়ে।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, "শিক্ষার্থীদের খাতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। ইংরেজিতে ও গণিতে দুর্বলতার কারণে পাসের হার কমলেও ফলাফল সন্তোষজনক। এ বছর বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪.৯৫ শতাংশ, উচ্চতর গণিতে পাসের হার ৬৯.৭১ শতাংশ, বিজ্ঞান বিভাগের রসায়নে ৭৭.৪৮ শতাংশ, এছাড়া আবশ্যিক আইসিটিতে পাসের হার ৬৮.৮৪ শতাংশ।"
তিনি আরও বলেন, "শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩টি। এর মধ্যে শতভাগ পাসকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খুলনার ১টি, চুয়াডাঙ্গার ১টি ও ঝিনাইদহের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
একইভাবে শতভাগ খণ্ডিত বা শতভাগ ফেলের ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যশোরের ১টি, সাতক্ষীরার ২টি, খুলনার ৬টি, কুষ্টিয়ার ২টি, নড়াইলের ১টি, মাগুরার ২টি, ঝিনাইদহের ১টি, মেহেরপুরের ১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শতভাগ পাসকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: মিরপুরের হাজী নূরুল ইসলাম কলেজ, গাংনীর মোর্কা জাগরণ কলেজ, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ, ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডী কলেজ, মনিরামপুরের সবুজ পল্লী কলেজ, খুলনা সদরের ইন্ডিপেন্ডেন্স আইডিয়াল কলেজ, সাতক্ষীরা সদরের ইসলামিয়া মহিলা কলেজ, কুমারখালীর জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ, মহম্মদপুরের গোপীনাথপুর এম. এ. খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির, কয়রার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপসার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, লোহাগড়ার মাকড়াইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউট, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সাতক্ষীরার এ. কে. ফজলুল হক এমএম কলেজ।