ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
সাজেক ভ্যালি ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে সাময়িক বিরতির ঘোষণা এসেছে। সাজেক সড়কে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল পরিবহন এবং দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছানোর মানবিক দিক বিবেচনা করে আগামী ১ নভেম্বর (রোববার) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই শিথিলতা কার্যকর থাকবে। এছাড়া পাহাড়ি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মাসব্যাপী 'কঠিন চীবর দান' উপলক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের গমনাগমনের ক্ষেত্রেও যানবাহন চলাচলের বিশেষ সুযোগ রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে এক ভিডিও বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ধর্মীয় উৎসব ও মানবিক বিষয় বিবেচনা করে রোববার ১২ ঘণ্টা ছাড় দেওয়া হলেও পরদিন সোমবার থেকে পূর্ব ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি আবার যথারীতি বহাল থাকবে। চীবর দান সংক্রান্ত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট বিহার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আয়োজক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আগাম যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা অবরোধের কারণে সাজেক ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের তীব্র সংকটে পড়েছেন। সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাজেকের পর্যটন খাতে যেমন স্থবিরতা নেমে এসেছে, তেমনি দুর্গম গ্রামগুলোতেও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং আন্দোলনের সমাধান খুঁজতে গত ২৫ অক্টোবর তিন সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২৬ অক্টোবর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং দুই জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে গঠিত রাঙ্গামাটির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাজেকের উজোবাজারে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
দীর্ঘ তিন ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে আন্দোলনকারী দুই সংগঠন—‘সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি পেশ করা হয়। চারটিতে ঐকমত্য হলেও একটি মূল দাবিতে সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠন দুটি। মূলত সাজেক এলাকা থেকে জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ইউপিডিএফ সমর্থিত এই দুই সংগঠন ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় গত ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করা হলে সাজেকে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরবর্তীতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ সাময়িক প্রত্যাহার হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৫ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় দফায় কর্মসূচি শুরু হয়। মাঝে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার কারণে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় দফার অবরোধ টানা চলার পর এবার রোববার এক দিনের জন্য শিথিল হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।