বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ শূন্যরেখায় কয়েকজনকে জড়ো করা হয়েছে। গোল চিহ্নিত। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে বেশ কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও সতর্ক নজরদারির কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
রোববার গভীর রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকার খড়ের মাঠসংলগ্ন অংশে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি জানায়, রাতের আঁধারে সীমান্তের আলো বন্ধ করে দিয়ে কিছু লোককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিল বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ওই পয়েন্টে কঠোর ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি- ধ্রুব নিউজ
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকায় বিএসএফের অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তবে পুশইনের চেষ্টা করা ওই ৮ থেকে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো পয়েন্ট) অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিরসনে এবং জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা মানুষদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

সীমান্তে আটকে থাকা মানুষদের ফিরিয়ে নিতে বিএসএফকে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। ধ্রুব নিউজ
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাতভর সীমান্ত এলাকায় আমাদের টহল জোরদার ছিল। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ সাদিপুর খড়ের মাঠ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬-এর কাছে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে পারেনি। বর্তমানে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএসএফ যেকোনো সীমান্তপথ ব্যবহার করে পুশইনের চেষ্টা করতে পারে। তবে বিজিবিও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ উপায়ে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”
বিজিবি জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বেনাপোলের সাদিপুরসহ পুরো সীমান্ত জুড়ে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে।