নিজস্ব প্রতিবেদক
হঠাৎ ইমো স্ক্রিনে ভেসে উঠল ‘বাংলাদেশ সিআইডি’ লেখা একটি নম্বর। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে শুরু হলো একের পর এক ধমক আর আইনি ব্যবস্থার হুমকি! কথা না শুনলে মুহূর্তে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে ব্যবসার সুনাম। যশোরে এক ভুয়া সিআইডি কর্মকর্তা সেজে আয়ুর্বেদিক ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের কাছ থেকে এভাবেই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নাটক সাজিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোর শহরের চাঁচড়া ডাল মিল এলাকায় অবস্থিত সরকারি রেজিস্টার্ড ‘আশরাফুল ল্যাবরেটরী’র পরিচালক হাকীম আশরাফুল ইসলাম লিটনের সাথে।
জিডির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ দুপুরে হাকীম আশরাফুল ইসলামের ইমো নম্বরে একটি অজ্ঞাত কল আসে। কলার আইডিতে লেখা ছিল ‘বাংলাদেশ সিআইডি’। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানায়, এক নারী নাকি আশরাফুল ল্যাবরেটরির ওষুধের বিরুদ্ধে সিআইডিতে সিআইডি সদর দফতরে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ থেকে অব্যাহতির নাটুকে গল্প ফেঁদে প্রতারক অবিলম্বে একটি বিকাশ নম্বরে (০১৯২১-৪৯৬০৪০) টাকা পাঠাতে বলে। টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং বড় ধরনের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।
তবে প্রতারক চক্রের সাজানো এই নাটকের ফাঁদে পা দেননি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম। সিআইডির ভুয়া পরিচয় ও ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেন। নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাকীম আশরাফুল ইসলাম লিটন জানান, "প্রতারক চক্রটি ভুয়া সিআইডি সেজে আমাকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেছিল। আমি আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।"
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, জিডির ভিত্তিতে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ওই ইমো ও বিকাশ নম্বর ব্যবহারকারী ভুয়া সিআইডি চক্রটিকে শনাক্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।