নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে মাগুরায় আটকে রেখে ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে যশোরের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে কোতোয়ালি থানায় এজাহার হিসেবে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানা-পুলিশ আদালতের এই আদেশ কার্যকর করে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে তিনজনকে। তারা হলেন—মাগুরার শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের সবেদ গাজীর ছেলে আজিম গাজী, বড় সলোই গ্রামের সিরাজ মোল্যার ছেলে ছরোয়ার হোসেন এবং মাগুরা পুলিশ লাইন এলাকার সামছুর ছেলে মোফাজ্জেল হোসেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, যশোর সদরের কৈখালী গ্রামের এক ব্যক্তির মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় রামপুর গ্রামের আজিম গাজীর। পরিচয়ের একপর্যায়ে আজিম ওই তরুণীকে ঢাকায় ভালো বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে তরুণীটি আজিমের আনা একটি প্রাইভেটকারে উঠে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তবে তাকে ঢাকায় না নিয়ে মাগুরা শহরের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে আজিম ও তার সহযোগীরা। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং ভারতে পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৪ জুলাই ওই তরুণী কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পরিবারকে বিষয়টি জানান।
এ ঘটনায় প্রথমে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী পরিবার যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আবেদন করে। বিচারকের নির্দেশে মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।