ছবি: প্রতীকী
যশোরের বেনাপোলে চরম লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পৌরবাসী। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে বিদ্যুৎ আসার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই তা আবার চলে যাচ্ছে। টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কারিগরি পেশাজীবীদের কাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে বেনাপোলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মেলাই দায়। এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫–২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে দোকানপাট, সেলুন ও ইলেকট্রনিকস মেরামতের মতো বিদ্যুৎনির্ভর পেশাজীবীরা মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম-ওএন্ডএম) মো. মনজুরুল ইসলাম জানান, সারাদেশে লোডশেডিং চলার কারণে এমনটি হচ্ছে। তবে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে কেন চলে যাচ্ছে—প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, এ বিষয়টি আমাদের আওতার বাইরে।
ঊর্ধ্বতন কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, "গ্রিড থেকে যখন বলা হয়, তখন আমরা লোডশেডিং করি। আমরা নিজেরা কিছু করি না, বিদ্যুৎ উৎপাদনও করি না। গ্রিড থেকে যা পাই, তা-ই দেওয়া হয়।"
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সেলুন কারিগর রবিন সরকার জানান, একজন গ্রাহকের চুল-দাড়ি কাটার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফলে আয়-রোজগার কমে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজন এলইডি টিভি মিস্ত্রি জানান, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি টেলিভিশন মেরামতের কাজও শেষ করা যাচ্ছে না।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরনগরী বেনাপোলে দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত লোডশেডিংয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সহনীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।