নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় শিউলি (৪৫) নামে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচে এ ঘটনা ঘটে।
আটক শিউলি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মাধবপুর থানার নাসিরনগর গ্রামের মৃত কামাল মিয়ার স্ত্রী ও মৃত সুলতানের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের গলদা গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী মরিয়ম (৫৫) চর্মজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচে অবস্থানকালে শিউলি নামে ওই নারী তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন টেনে ছিঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিষয়টি টের পেয়ে মরিয়ম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে শিউলিকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
ঘটনাটি যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং আটক নারীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এদিকে হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে এ ঘটনায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নজরদারি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
হাসপাতালের রোগীর সোনার চেইন চুরির চেষ্টার দায়ে তাকে ৬ মাস করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ আগস্ট) সামারি কোর্টের বিচারক ও জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) সঞ্জয় পাল একদিনের বিচার প্রক্রিয়ায় এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পেশকার মোজাফ্ফর হোসেন।
এছাড়াও এসির তার চুরির মামলায় শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার আকবরের মোড় এলাকার তরিকুল ফকিরের ছেলে সাকিব হোসেন (১৯) কেও ৬ মাসের কাদান্ঢ দিয়েছেন একই আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে অভিযুক্ত সাকিব হোসেন বেজপাড়াস্থ গণপূর্ত বিভাগ-২-এর প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এসির তার চুরির চেষ্টা চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল হোসেন তাকে আদালতে হাজির করলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
তবে আসামির স্বজনদের দাবি, সাকিব চুরির ঘটনার সাথে জড়িত নন। তিনি যশোর নতুন বাজারের একটি গ্যারেজের শ্রমিক। সকালে গ্যারেজে যাওয়ার পথে স্থানীয় এক ব্যক্তি জোর করে তাকে গণপূর্ত অফিসে একটি সাইকেল আনতে পাঠান। সেখানে গেলে লোকজন তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরে পুলিশে দেয়।
সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন।