বিশেষ প্রতিবেদক
রোববার সকালে কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের জেলা ও পুলিশ প্রশাসন দ্রুতই শহরে উচ্চ শব্দে চালানো মোটরবাইক, ছিনতাইকারী, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী তরুণ-বখাটে এবং বিভিন্ন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্তদের বিরুদ্ধে অভিযানে ও ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠে নামছে। যশোর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এ কথা বলেন।
তিনি জানান, "আমাদের কাছে খবর আছে, আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না তেমন জায়গায় এবং ভয়াবহভাবে এই অসামাজিক কার্যকলাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এ জাতীয় অপরাধ প্রমাণের অভাবে ছাড় পাচ্ছে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই, খুব শিগগিরই একটি জরুরি যোগাযোগ নম্বরও দেওয়া হবে যাতে সবাই তথ্য দিতে পারেন। তাছাড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হবে মাঠে কাজ করার জন্য।" তিনি আরও বলেন, যশোর শহরকে নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করতে বৃষ্টি কমলে ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।
রোববার সকালে কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় প্রথমে জেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় করণীয় নির্ধারণ করে জানানো হয়, জেলায় ভবদহ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুর্যোগ বলতে যা বোঝায় সে অবস্থা তৈরি হয়নি। ভবদহকে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার প্রকল্পে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী সাড়ে ৮১ কিলোমিটার নদী খননের ৫০ কিলোমিটারের অধিক খনন কাজ সম্পন্ন করায় পানি দ্রুতই নামতে পারছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত শুক্র ও শনিবারে ৪টি উপজেলায় ২৭ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে এবং যশোরে দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ সময় চট্টগ্রামসহ অন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাস্তবতা তুলে ধরে সরকারের নির্দেশনা সবাইকে জানানো হয়। সেই সাথে বলা হয়, এখন থেকে যশোরে স্বাস্থ্য বিভাগ, পানি উন্নয়ন বিভাগ, সড়ক বিভাগ, খাদ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।
পরে মূল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দীর্ঘক্ষণ কীভাবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে, বিশেষ ব্যবস্থায় উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) ব্যবহার করে আসামিরা জামিন নিচ্ছে, সে সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, তথ্য গোপন করে অনেক আসামি হাইকোর্ট থেকে অপকৌশলে জামিনে বের হয়ে আসছে। একাধিক মামলা থাকলে তারা একটি বা দুটি মামলার কথা হাইকোর্টে জানিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। এতে অনেক দাগি আসামি ও সন্ত্রাসী বাইরে থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সভায় সতর্ক করে জানানো হয়, এপিপিরা যদি এসব তথ্য জানা সত্ত্বেও দাগি অপরাধীদের জামিন রুখতে না পারেন, তবে সংশ্লিষ্ট এপিপির নিয়োগ বাতিল করার সুপারিশ করা হবে এবং সেখানে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হবে। যদি কোনো এপিপি তথ্য জানা সত্ত্বেও বড় অপরাধী জামিন পায়, তবে ওই এপিপির বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ আকারে লেখা হবে এবং তার পরিবর্তে যোগ্য এপিপি নিয়োগ দেওয়া হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, যশোরে পারিবারিক পর্যায়ে কীভাবে খুন বেড়েছে, তবে সব অপরাধই পুলিশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আর অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকদের লাইসেন্স প্রদানের কমিটি গত মাসে কাজ করতে না পারলেও আগামী মাসে এদের কাজ দেখা যাবে এবং জনগণও এর সুফল পাবে। এছাড়া দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোনোভাবেই মেয়াদোত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য রাখা যাবে না বলেও জানানো হয়। যদি কেউ রাখতেই চায়, তবে প্রতিষ্ঠানের আলাদা বক্সে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ লেবেল লাগিয়ে রাখতে হবে, নতুবা অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ মালামাল পাওয়া গেলে আইনানুযায়ী জরিমানা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা, জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার এবং যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।