নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নানাবাড়িতে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত টেবিল ফ্যানের মাল্টিপ্লাগের ছিদ্রে আঙুল ঢুকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লাবিব (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ঘোপ ছাতিয়ানতলা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু লাবিব নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার বাবরা গ্রামের ইমরান শেখের ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে বাঘারপাড়ার ঘোপ ছাতিয়ানতলা গ্রামে তার নানাবাড়িতে থাকত। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবার ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে পুরো এলাকায় এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নানাবাড়ির বারান্দায় আপন মনে খেলাধুলা করছিল শিশু লাবিব। বারান্দার এক কোণে সচল থাকা একটি টেবিল ফ্যানের মাল্টিপ্লাগটি মেঝেতে রাখা ছিল। খেলার ছলে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে লাবিব ওই মাল্টিপ্লাগের খোলা ছিদ্রে আঙুল ঢুকিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অবচেতন হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেডিকেল ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসাবাড়িতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বা ঘরের আর্দ্র পরিবেশে বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগ ও খোলা তার মেঝেতে রাখা শিশুদের জন্য একেকটি মরণফাঁদ। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে হামাগুড়ি দেওয়া বা অল্প বয়সী শিশুদের নাগালের মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক সংযোগ, লো-ভোল্টেজ সুইচবোর্ড এবং ফ্যানের খোলা তারের বিষয়ে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাঘারপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, অবুঝ এই শিশুর অকাল মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।