আব্দুর রশীদ, চৌগাছা প্রতিনিধি
অর্চনা মজুমদার ছবি: ধ্রব নিউজ
যশোর চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের যুবক সমর মজুমদারের জীবনে একের পর এক নেমে এসেছে দুর্ভোগ। মাত্র ছয় মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছে বাবাকে। বাবার মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই এবার মা অর্চনা মজুমদারের (৪৭) দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে ডায়ালাইসিসই তার শেষ ভরসা। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসাও চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সমরের বাবা সাধন কুমার মজুমদার ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়া গৌরসুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর স্কুল থেকে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছা-ঝিকরগাছা পলুয়া এলাকায় একটি চালবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। ট্রাকের মালিক পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও কিছুদিন পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাধন কুমার মজুমদার দীর্ঘ সাড়ে ১৯ বছর একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। চাকরির বেতন চালু হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হারানোর পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবার।
এদিকে বাবার মৃত্যুর পর থেকেই অসুস্থ মায়ের শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে।
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসা সুত্রে জানা যায়, অর্চনা মজুমদারের দুটি কিডনিই প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। ঔষধের আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রতিটি ডায়ালাইসিস করতে ব্যয় হচ্ছে সাড়ে ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিবারের সদস্য সুত্রে জানা যায়, অসুস্থতার কারণে তিনি প্রায় পুরোপুরি অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোফাজ্জেল হোসেন জানান, “পরিবারটি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। মানবিক কারণে সকলের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। সামান্য সহযোগিতাও একজন অসহায় মায়ের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখবে।”
সমর মজুমদার জানান, “বাবা ছিলেন আমাদের পরিবারের ছায়া। তাকে হারানোর পর আমরা অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এখন মায়ের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। গত ছয় মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারানোর পর থেকে আমার মায়ের অসুস্থতা আরও বেড়ে যায়। মায়ের কষ্ট দেখে অসহায় লাগছে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।”
সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সমর মজুমদারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া আর্থিক সহায়তা পাঠানোর জন্যও তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭৮৪-৩৬৪৪২৮ দেওয়া হয়েছে।