নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে সরদার স্টেটের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর শহরের আরবপুরে নির্মাণাধীন ‘ডিলাইট সরদার প্যালেস’ ভবনের বকেয়া বিল না দিয়ে উল্টো ঠিকাদারদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘সরদার স্টেট’-এর বর্তমান মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়েছে। বকেয়া বিল না পাওয়ায় ভবনটির কাজে নিয়োজিত প্রায় ৩০০ শ্রমিক চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনার প্রতিকার এবং প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিতে ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও শ্রমিকরা আজ বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন।
ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার আরবপুরস্থ বিমান বন্দর সড়কের ‘সরদার স্টেট’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম সরদার (হবি) তার নিজ জমিতে একটি ১৩তলা ভবনের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কাজ চলাকালীন চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর প্রবাস থেকে ফিরে এসে সরদার স্টেটের মালিকানার দায়ভার গ্রহণ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই সন্তান কামাল হোসেন ও সায়াদ হোসাইন। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ জানুয়ারি তারা ভবনের সব ঠিকাদারদের ডেকে নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার আদেশ দেন।
ঠিকাদাররা তাদের বকেয়া বিলের কথা জানালে মালিকপক্ষ ভবনের ম্যানেজার মো.ফরিদ হোসেন ও জামির হোসেনের কাছে কাজের বিল জমা দিতে বলেন। চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া কাজের বিল জমা দেওয়ার পর টাকা চাইতে গেলে ম্যানেজার ও মালিকপক্ষ ঠিকাদারদের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে গত ১০ জানুয়ারি ঠিকাদাররা সশরীরে বিলের টাকা চাইতে গেলে মরহুম আব্দুস সালাম সরদারের দ্বিতীয় ছেলে সায়াদ হোসাইন এবং তার শ্বশুর জিয়াউল হক ঠিকাদারদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা ঠিকাদারদের ওপর হামলা ও মারধর করেন। বকেয়া টাকা পুনরায় চাইলে বা এই বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে জিডি করার পরও অভিযুক্তরা কোনো প্রকার মীমাংসা বা টাকা পরিশোধ করেননি। মানববন্ধনে ৮ জন ঠিকাদার তাদের মোট ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ২৮৩ টাকার বকেয়া বিলের হিসাব তুলে ধরেন।
যার মধ্যে শাপলা কন্সট্রাকশনের আনিচুর রহমানের ২৭ লাখ ৭৪ হাজার ৯৫৪ টাকা, সকাল সন্ধ্যা স্যানিটারী এন্ড ইলেকট্রিকের আব্দুল খালেকের ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৭ টাকা এবং মেসার্স তন্নি ইলেকট্রিকের ইউনুচ আলীর ১১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮৫ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া টাইলস ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনের ৯ লাখ ১৩ হাজার৩৬০ টাকা, রং ঠিকাদার শফিয়ার রহমানের ৩ লাখ ৭১ হাজার৬০৭ টাকা, থাই ও গ্লাস ঠিকাদার চাঁন আলীর ২ লাখ ১৬ হাজার৭১০ টাকা, রওশনআরা ফার্নিচারের আমির হোসেনের ১ লাখ ৫৭ হাজার১০০ টাকা এবং গ্রিল ঠিকাদার রিপন হোসেনের ৪৬ হাজার৫৮০ টাকা বকেয়া রয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা আটকে থাকায় শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে ঠিকাদাররা জানিয়েছেন।