Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

১৭ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত যশোরবাসীর প্রত্যাশা অনেক

শেখ জালাল শেখ জালাল
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট : রবিবার, ২৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
১৭ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত যশোরবাসীর প্রত্যাশা অনেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: ধ্রুব নিউজ

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে উন্নয়নের মানচিত্র থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকা যশোর এখন নতুন আশার আলোয় উদ্ভাসিত। আগামীকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে প্রত্যাশার মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। কেননা যশোরবাসীর কাছে উন্নয়নের অবিসংবাদিত কারিগর হলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম। স্থানীয়রা মনে করেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে যশোরের জন্য যা কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রতিটি ইটে মিশে আছে তরিকুল ইসলামের অবদান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিশেষ করে তরিকুল ইসলামের পুত্র অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। যশোরবাসী মনে করে, বাবার আদর্শ ও কর্মস্পৃহাকে ধারণ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। সেই বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম যশোর সফরে উন্নয়নের পথরেখা দেখতে চান যশোরের বাসিন্দারা।

ঐতিহাসিকভাবে যশোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও বিগত ১৭ বছরে এখানে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত পরিবর্তন আসেনি। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রবেশদ্বারটি ভারতের সাথে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলকে যুক্ত করলেও, মহাসড়কের দুরবস্থা এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে এই অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময়ের এই প্রশাসনিক অবহেলায় যশোরের মানুষের প্রত্যাশা এখন হিমালয় সমান।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে আলাপে ও বর্তমান বাস্তবতায় যশোরের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান: যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার মানুষের প্রধান দুঃখ ‘ভবদহ’। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জলাবদ্ধতার কারণে এই অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন বিপর্যস্ত। টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোয়ারাধার পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ এবং নদী খননের মাধ্যমে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি চায় লাখ লাখ মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভবদহ সমস্যার স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক সমাধানের ঘোষণা যশোরবাসীর সবচেয়ে বড় আবেগ ও প্রাণের দাবি।

২. সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন: প্রায় ৫ লাখ মানুষের এই প্রাচীনতম পৌরসভাকে আধুনিক নাগরিক সুবিধা দিতে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর অপরিহার্য। যশোর পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণের গেজেট ও ৩০০ কোটি টাকার একনেক প্রকল্প পাস হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক রূপ না আসায় অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।

৩. যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ: দেশের প্রাচীনতম এই বিমানবন্দরটি থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করা এখন সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক সুবিধা না থাকায় বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিপুল সংখ্যক বিদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটককে সড়কপথে যাতায়াত করতে হয়। একে আন্তর্জাতিক করা হলে পর্যটন ও বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

৪. মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ: ঢাকা-যশোর-বেনাপোল এবং বেনাপোল-যশোর-নড়াইল মহাসড়কটি দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি কমপক্ষে ৬ লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন। সম্প্রতি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) ও ‘জাতীয় তরুণ সংঘ’ এক মানববন্ধনে এই দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে।

৫. যশোরকে পৃথক বিভাগ ঘোষণা: ভৌগোলিক ও জনসংখ্যা বিচারে যশোর বিভাগ হওয়ার সকল যোগ্যতা রাখে। সেবা প্রাপ্তি সহজ করতে এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রেীকরণের মাধ্যমে অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বিভাগ ঘোষণা অপরিহার্য।

৬. বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি ও সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়: কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মৃতিধন্য এই জনপদে উচ্চশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আলাদা সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি।

৭. উন্নত চিকিৎসা সেবা: যশোরে করোনানী কেয়ার ইউনিট নামে একপি বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসালয় থাকলেও তা কখনো পূর্ণতা পায়নি। বরং যশোর জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহুত হচ্ছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া জরুরি। এছাড়াও পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সুবিধা ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও থাকছে।

৮. রেলপথ সম্প্রসারণ ও ট্রেন বৃদ্ধি: সাতক্ষীরা-যশোর-মাগুরা-মুজিবনগর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ এবং যশোরের মধ্য দিয়ে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত দাবিতে রেলমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

৯. আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও শিশুপার্ক: যশোরে ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মানের একটি মাঠ নেই। যে স্টেডিয়ামটি খেলার জন্য ব্যবহুত হয়, সেই মাঠের গ্যারারি ভেঙ্গে শেখ হাসিনার জনসভা করা হয়। এরপর থেকে সেই গ্যালারি আর তৈরি হয়নি।  এছাড়া শহরের শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি আধুনিক শিশুপার্ক স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।

১০. শিল্পায়ন ও গ্যাস সরবরাহ: বৃহত্তর যশোরে শিল্পায়নের প্রধান বাধা গ্যাসের অভাব। দ্রুত গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতের পাশাপাশি বসুন্দিয়াকে ইপিজেড থানা ঘোষণা এবং প্রতিটি জেলায় বিশেষ অর্থনৈতিক জোন করা হলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

১১. পর্যটন নগরী ও বাওড় নেটওয়ার্ক: যশোরকে পর্যটন নগরী ঘোষণা করে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বাওড়গুলোকে ঘিরে পর্যটন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণ করলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রশস্ত হবে।

১২. অর্থকারী ফসল উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা : অতীতে তুলো ও পাটের মত অর্থকরী ফসল উৎপাদনে যশোর ছিল শীর্ষে, সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা দরকার। এরপাশাপাশি যশোরের ফুল ও সবজি অর্থকরী ফসল হিসেবে দেশের ভূমিকা রাখতে এগুলো উৎপাদন ও সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণ ও প্রণোদনা প্রদান করতে হবে।

এখন জেলাজুড়ে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুরু হবে।

যশোরবাসী মনে করে, তরিকুল ইসলামের সুযোগ্য উত্তরসূরিদের হাত ধরে যশোরের উন্নয়নের চাকা আবারও সচল হচ্ছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শহর। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কালকের এই জনসভা থেকেই দীর্ঘ ১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চনা ঘুচিয়ে যশোরের জন্য সোনালী ভবিষ্যতের নতুন অঙ্গীকার আসবে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)