শার্শা ও বেনাপোল প্রতিনিধি
বেনাপোল: যশোরের বেনাপোলে মাংস ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে গলা কেটে হত্যার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো অনুদঘাটিত। ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট গভীর রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিজানের বাড়িটি সুউচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত ছিল এবং সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল। ঘটনার রাতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় বাড়ির বাইরে থেকে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে সিসিটিভি অডিওতে রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে মিজানের আর্তচিৎকার রেকর্ড হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে ঘটনার সময় ঘাতক বাড়ির ভেতরেই ছিল কি না।
পেশায় মাংস বিক্রেতা মিজানুর রহমান শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই রাতে তারা ধস্তাধস্তির কোনো জোরালো শব্দ পাননি। ফলে মিজানকে অচেতন করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ মেডিকেল ও ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করছে।
নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুনের জবানবন্দি অনুযায়ী, রাত ১১টায় কাজ শেষে মিজান বাড়িতে ফেরার পর তিনি নিজেই বাড়ির প্রধান ফটক ও দরজা বন্ধ করেছিলেন। পরদিন ভোরে একজন ভ্যানচালকের ডাকে তিনি বাড়ির বাইরে স্বামীর লাশ পড়ে থাকার খবর পান। ঘটনার দিন পাওনা টাকার দাবিতে জনৈক ব্যক্তির আসার কথা তিনি উল্লেখ করলেও তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় দিতে পারেননি। পাশাপাশি, মামলা করার বিষয়ে ফিরোজা খাতুনের অনাগ্রহের বিষয়টিও তদন্তকারীরা পর্যবেক্ষণ করছেন।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যদের আচরণে কিছু বৈচিত্র্য দেখা গেছে। রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে গেম খেলা ছেলে মুরসালিন রাত পৌনে ৩টায় মায়ের চিৎকারেও জেগে না ওঠার বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রাশেদ আলী জানিয়েছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজ ও জবানবন্দিতে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে কিছু গরমিল রয়েছে। মেডিকেল এবং ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর মাধ্যমেই তদন্তে নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।"