আব্দুর রশিদ, চৌগাছা (যশোর)
ছবি: সংগৃহীত
পুরো বাড়ীয়ালী গ্রাম জুড়ে এখন কেবলই নিস্তব্ধতা। চারদিকে শোকের মাতম আর স্বজনদের আহাজারি। যে মানুষটির পদচারণায় মুখরিত থাকতো চারপাশ, আজ তার অকাল প্রস্থানে পুরো গ্রামটি যেন এক স্তব্ধ জনপদে পরিণত হয়েছে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তাদের প্রিয় সন্তান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মোঃ হুমায়ুন কবির রিপনের এই চলে যাওয়া।
রিপনের বাড়িতে পা রাখতেই শোনা যাচ্ছে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। চার ভাই-বোনের মধ্যে রিপন ছিলেন সবার বড়। বড় ছেলেকে হারিয়ে পিতা কামাল উদ্দিন এখন বাকরুদ্ধ, যেন জীবন্ত এক পাথর। পরিবারটির বড় ছায়াটি হঠাৎ সরে যাওয়ায় পুরো বংশের ওপর নেমে এসেছে পাহাড়সম শোকের বোঝা। রিপনের দুই মাসুম সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ের নিষ্পাপ চাহনি আর কান্নায় উপস্থিত সবার চোখ ভিজে উঠছে। তাদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে শোকাতুর হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।
নিষ্ঠাবান ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে এলাকায় রিপনের ব্যাপক সুনাম ছিল। তার মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই গ্রামের মোড়ে মোড়ে, চা দোকানে চলছে শোকগাথা। গ্রামের প্রতিটি মানুষ রিপনের অমায়িক ব্যবহারের কথা স্মরণ করে চোখের জল ফেলছেন। সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন সাহসী যোদ্ধার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গ্রামটির প্রতিটি ঘর আজ শোকাতুর, প্রতিটি মানুষ আজ শোকার্ত।
ঘটনাটি ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারির। ডিউটি শেষ করে যশোর সেনানিবাস থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম বাড়ীয়ালীর উদ্দেশে ফিরছিলেন রিপন। পথিমধ্যে উপজেলার চাঁন্দা আফরা নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি মোটরসাইকেলের সাথে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রিপনের এই শূন্যস্থান কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।