ধ্রুব ডেস্ক
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান ছবি: ধ্রুব নিউজ
শার্শা-বেনাপোলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নামে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখানকার সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে শার্শাকে অবহেলিত জনপদ থেকে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক ও শিক্ষানগরীতে রূপান্তর করব। শনিবার নাভারণের হক কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান।
শার্শা ও বেনাপোলের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে মাওলানা আজীজুর রহমান তার বক্তব্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন-
সীমান্ত বাণিজ্যের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া
মাওলানা আজীজুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও এর সুফল স্থানীয়রা সেভাবে পাচ্ছে না। তিনি নির্বাচিত হলে সীমান্ত বাণিজ্য আরও সহজীকরণ এবং বন্দরের আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি স্পষ্ট করেন , আমদানিকৃত মালামাল খালাস ও পরিবহনে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন
শার্শার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে তার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়ন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিসহ কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর কথা বলেন তিনি।
দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা
প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান তার বক্তব্যে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে শার্শা হবে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজিমুক্ত একটি এলাকা। সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে কোনো হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন
শার্শার গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও সাধারণ মানুষের চলাচলের কষ্ট লাঘবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক উন্নয়ন করা হবে।
কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন
বেকারত্ব দূর করতে সীমান্ত এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প কলকারখানা স্থাপনের ওপর জোর দেন তিনি। এর মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের কারিগরিভাবে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আজীজুর রহমান বলেন, আপনারা এলাকার অভাব-অভিযোগের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে শার্শাবাসীকে এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি , আমি ক্ষমতার জন্য নয়, সেবক হওয়ার জন্য এসেছি। তিনি একটি অবাধ ও ভীতিহীন নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের কলমকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সভায় বেনাপোল পোর্ট থানা জামায়াতের আমির মো. রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা ইউসুফ আলী, এনসিপির আহ্বায়ক মুরাদ্দো দৌলা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার মো. তৈবুর রহমান জাহাঙ্গীর, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা ফারুক হাসান এবং উপজেলা সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।